
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: ২০৫০ সালের মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার পেশাজীবী হাফেজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে মালয়েশিয়া সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে তাহফিজ শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. আহমদ জাহিদ হামিদি বলেছেন, তাহফিজ শিক্ষাব্যবস্থাকে অবমূল্যায়ন করা কিংবা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে সীমিত করে দেখা উচিত নয়। যথাযথ সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে হাফেজরাও চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন।
শনিবার মালয়েশিয়ার মেলাকা নগরীতে হাফেজদের স্নাতক সমাপনী ও উলুল আলবাব শিক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমদ জাহিদ বলেন, তাহফিজ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত কর্মজীবনে প্রবেশের জন্য সুস্পষ্ট পথ তৈরি করা সরকার ও সমাজের দায়িত্ব। পবিত্র কোরআন মুখস্থ করার পর যেন স্বীকৃতি ও কর্মসংস্থানের অভাবে তাঁদের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, তাহফিজ শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে জাতীয় তাহফিজ শিক্ষা নীতির ধারাবাহিকতায় ‘মালয়েশিয়া তাহফিজ সনদ ২.০’, ‘মালয়েশিয়া তাহফিজ স্বীকৃতি মানদণ্ড’ এবং জাতীয় তাহফিজ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপপ্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার শিশু কিন্ডারগার্টেন ও কেমাসের প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাক্-তাহফিজ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ছাড়া মারার আওতাধীন ৫৮টি উলুল আলবাব মডেলের নিম্ন মাধ্যমিক বিজ্ঞান কলেজের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (এসপিএম) উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বলেও তিনি জানান।
দেশের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত তাহফিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পন্ডককে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে মারার (এমএআরএ), গিয়াটমারা ও কুয়ালালামপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএনআইকেএল) প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রম কাজে লাগানো হবে।
আহমদ জাহিদ বলেন, কোরআন মুখস্থ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও মনোযোগের যে গুণ তৈরি হয়, তা কারিগরি প্রশিক্ষণ ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। ধর্মীয় জ্ঞান ও আধুনিক পেশাগত দক্ষতার সমন্বয় ঘটলে হাফেজরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
