অস্ট্রেলিয়ার নারী সংসদ সদস্য হেলেন হেইনস গাড়িচাপায় দুই পা হারিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গাড়িচাপা দেওয়া হয়েছিল। তার স্বামী ফিল হেইনস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফিল হেইনস জানিয়েছেন, ‘ভয়াবহ এই ঘটনায়’ তার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে তার হৃদয় ও মানসিক অবস্থা ভালো রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো, সে বেঁচে আছে।’
অভিযুক্ত ৪৩ বছর বয়সী ব্রেন্ডান নুজেন্টের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির হন তিনি।
মেলবোর্ন থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আঞ্চলিক শহর ওয়ানগারাটায় নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ের বাইরে হেইনসকে গাড়িচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নুজেন্টের বিরুদ্ধে। টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার চালিয়ে তাকে ধাক্কা দেওয়ার পরপরই গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে।
মেলবোর্নের যে হাসপাতালে হেইনস চিকিৎসাধীন, সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে তার স্বামী বলেন, ‘তার সুস্থ হয়ে ওঠার পথ দীর্ঘ ও কঠিন হবে। তবে আমরা জানি, সে একজন লড়াকু মানুষ।’
তিনি আরও বলেন, ‘হেলেন দৃঢ়চেতা একজন মানুষ। আমাদের সমর্থন ও ভালোবাসা নিয়ে সে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। আমরা সেটাই আশা করছি।’
হেইনসের চিকিৎসায় নিয়োজিত হাসপাতালের কর্মীদের ধন্যবাদ জানান তার স্বামী। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা তার স্ত্রীর জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। হেইনসকে সমর্থন জানাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের তহবিলে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানান ফিল।
তিনি বলেন, ‘দয়া করে হেলেনের প্রতি আপনাদের ভালোবাসা জানাতে থাকুন।’
বুধবার স্থানীয় আদালতে হাজির হয়ে নুজেন্টের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের কথা জানানো হয়। অভিযোগগুলো হলো—বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আঘাত করা, ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের একজন কর্মকর্তাকে আঘাত করা।
পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে। এর মধ্যে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।
কাছের শহর ট্যারাউইঙ্গির বাসিন্দা নুজেন্ট পরিবেশকর্মী হিসেবে পরিচিত। আদালতে সংক্ষিপ্ত হাজিরার সময় তাকে নীরব ও নির্বিকার থাকতে দেখা যায়।
তিনি জামিনের আবেদন করেননি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে তাকে আবার আদালতে হাজির হতে হবে। আদালতের নথিতে গাঁজা চাষ ও নিজের কাছে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
আদালতে নুজেন্টের আইনজীবী জানান, তার মক্কেলের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
আদালতকে আরও জানানো হয়, নুজেন্ট বিরল এক স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত। রোগটির নাম ইডিওপ্যাথিক ট্রান্সভার্স মায়েলাইটিস, যা মেরুদণ্ডে প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে।
ভিক্টোরিয়া পুলিশ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় পুলিশের সহযোগিতায় ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এখনো হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভিক্টোরিয়া পুলিশের কমিশনার মাইক বুশ বলেন, ‘আমরা যে ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা বলে অভিযোগ করছি, এর পেছনে অভিযুক্তের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কর্মকর্তারা ঘটনার প্রতিটি দিক, সম্ভাব্য কারণ ও সূত্র খতিয়ে দেখবেন। তদন্তের মাধ্যমে যখন বিষয়টি উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে, তখন তা আদালতে উপস্থাপন করা হবে।’
