আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্মার্টফোনের বাজারে এবার অ্যাপল কিংবা স্যামসাংয়ের মতো সমকক্ষ হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখছে ভারত। ২০২৮ সালের মধ্যেই বিশ্বমঞ্চে নিজস্ব ব্র্যান্ড, নিজস্ব নকশা এবং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্মার্টফোন হাজির করবে দেশ— ঠিক এমনই এক আত্মবিশ্বাসী ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। দিল্লিতে আয়োজিত 'এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট'-এ যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় দিনক্ষণ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আজ ২৩ অক্টোবর ২০২৬; ঠিক দু'বছর পর, অর্থাৎ ২০২৮ সালের ২৩ অক্টোবরের মধ্যেই ভারতের নিজস্ব মোবাইল ব্র্যান্ড বিশ্ববাজারে দাপট দেখাতে শুরু করবে।
মোবাইল তৈরির প্রযুক্তিগত জটিলতা বোঝাতে গিয়ে তিনি সাক্ষাৎকারের সময় সঞ্চালকের হাত থেকে তাঁর ফোনটি চেয়ে নেন এবং উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায়, একটি মুঠোফোনের সামান্য জায়গার ভেতরে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি, অ্যান্টেনা, প্রসেসর, মেমোরি, ক্যামেরা মডিউল, ডিসপ্লে ও পাওয়ার ম্যানেজমেন্টের মতো অগুনতি জটিল যন্ত্রাংশ নিখুঁতভাবে সমন্বয় করতে হয়। এই জটিল কাজটি যাতে দেশে তৈরি হতে পারে, সেজন্য তিন বছর আগেই ভারতীয় নকশাকারীদের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ রাখা হয়েছিল। বিশেষ করে মোবাইলের মাদারবোর্ড বা পিসিবি (PCB) তৈরির সেই চ্যালেঞ্জে এগিয়ে আসে দুটি ভারতীয় সংস্থা। তাদের মধ্যে একটি সংস্থা এতটাই উন্নতমানের নকশা তৈরি করে যে, আমেরিকার বৃহত্তম টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাও তাদের সেই নকশা নির্বাচন করেছে এবং ইতিমধ্যেই সেখানকার গ্রাহকদের হাতে সেই ৫জি-প্লাস ফোন পৌঁছেও গিয়েছে।
অশ্বিনী বৈষ্ণব জোর দিয়ে জানান, গত সাড়ে তিন বছরে ভারতীয় মেধার মাধ্যমে এই সক্ষমতা দেশেই তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এবার সেই প্রযুক্তি, নকশা এবং আইপি (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) দেশের মাটিতেই ধরে রেখে এক নিজস্ব ভারতীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলা হবে, যা বিশ্বের সর্বাধিক বিক্রিত ফোনগুলির অন্যতম হয়ে উঠবে।
এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পূর্বতন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, আগের শাসনকালে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ ও বামপন্থী ঘরানার নিয়ন্ত্রণবাদী মানসিকতার কারণে দেশের উৎপাদন ক্ষেত্র মারাত্মকভাবে থমকে গিয়েছিল। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে 'মেক ইন ইন্ডিয়া' ভাবনার সূচনা হওয়ার পরই প্রকৃত অর্থে দেশের উৎপাদন পরিকাঠামোয় আমূল রূপান্তর ঘটেছে। মোবাইল, ড্রোন থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ট্রেনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে। এক দশক আগেও যেখানে ভারত ইলেকট্রনিক্স পণ্য রপ্তানির কথা ভাবতেই পারত না, আজ তা দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে বলে আশাপ্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
