মহাসপ্তমীর রাতের আনন্দ নিমেষে বদলে গিয়েছে বিষাদে। প্রতিমা দর্শনে গিয়ে চোরবাগান সার্বজনীনে প্রাণ গিয়েছে কমপক্ষে ১৯ জনের। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ম্লান হয়ে গিয়েছে পুজোর আনন্দ। কিন্তু দুর্ঘটনার ঠিক পরের মুহূর্তে কী হয়েছিল? নিজের চোখে দেখা অভিশপ্ত মুহূর্তের বর্ণনা দিলেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “প্যান্ডেলের একাংশ ভেঙে পড়ার পর স্বাভাবিকভাবেই সেখানে দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সবাই কোনও ক্রমে বেরনোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু সেই জায়গা ছিল না। কেউ কেউ তাও কোনও রকমে বেরোয়। তবে প্রত্যেকেই জখম ছিল। কারও মুখ দিয়ে রক্ত, কারও মাথায় কেটেছে। জামাকাপড় ছিড়েছে। তখন কিছু না ভেবে শুধু প্রাণটুকু বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল সকলে।” তিনি আরও বলেন, “রাস্তায় দেখি শুধু ছড়িয়ে জুতো, ব্যাগ জলের বোতল।” আরেক যুবক বলেন, “যখন হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছে তখন বুঝেছি কী ভয়ংকর কাণ্ড ঘটে গিয়েছে। অনেকে অচেতন হয়ে পড়েন। সম্ভবত ওখানে একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি অনেকের পালস চেক করছিলেন। তবে ভিতরে সেভাবে পুলিশ ছিল না। ফলে সামাল দিতেও খানিকটা সময় লেগেছে। তবে যা দেখেছি, সে দৃশ্য ভোলার নয়।”
উল্লেখ্য, চোরবাগান বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে শহরের বড় পুজো মণ্ডপে ভিআইপি পাস বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। সবাইকে এবার একটা লাইন দিয়েই ঢুকতে হবে। ভবানীভবনে বৈঠকের পর বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। তাঁর কথায়, দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে যা করার করা হচ্ছে। এদিকে এই ঘটনার পরেই বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর। আগামী ২৬ তারিখ রাজ্যের উদ্যোগে বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান রয়েছে। সেই অনুষ্ঠান একেবারে আড়ম্বরবর্জিত হবে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, সমস্ত কমিটিকে আগামী ২৬ তারিখ ডাকা হচ্ছে। সেখানে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পাশাপাশি আহতদের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হবে।
