নেহা বোরা মুক্ত, অভিজিৎ দিপককে শর্তসাপেক্ষ জামিন
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ভারতের দিল্লিতে আটক অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে ভোটের কারচুপির অভিযোগে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আটক ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে দিল্লির একটি আদালত শর্তসাপেক্ষ মুচলেকায় তাকেও জামিনের নির্দেশ দেন।
দিল্লি পুলিশ জানায়, আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে নেহা বোরাকে মুক্তি দেওয়া হলেও অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) নির্দিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে দিপককে আটকের পর তার অবস্থান কিংবা আটকের কারণ স্পষ্ট না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সিজেপি নেতৃত্ব।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নয়াদিল্লির কনট প্লেসে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ শীর্ষক একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেছিলেন অভিজিৎ দিপক।
আরও পড়ুন
কর্মসূচি শুরুর আগেই নিজ বাসা থেকে তাকে এবং যন্তর মন্তরের কাছ থেকে নেহা বোরাকে আটক করে পুলিশ। একই আন্দোলনের জেরে সিজেপির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
মুক্তি পাওয়ার পরই দিল্লি পুলিশ এবং বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন আইসার সভাপতি নেহা বোরা। তার অভিযোগ, বেআইনিভাবে আন্দোলনকারীদের আটক করা হচ্ছে। ভোটার তালিকার বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাকে জেলে পাঠানোর দাবিও তুলেছেন।
আরও পড়ুন
এএফ/
আরও পড়ুন
রাশিয়ার ওপর আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় লক্ষ্য করে নতুন করে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরে আসার সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ। এ সিদ্ধান্তকে মস্কোর জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) পুতিনের দূত দিমিত্রিয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রাহাম আইন স্থগিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল এর দুই দিন পর।
আরও পড়ুন
গত মাসে এ-সংক্রান্ত আইনে সই করার পর ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে তার বিরোধ বেড়েছে। এতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর প্রায় পাঁচ বছর পর ওয়াশিংটন ক্রমেই মস্কোর পক্ষ নিচ্ছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এ যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
পুতিনের দূত বলেন, আইনটি কার্যকর হলে ‘সবার আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক বাজারের গুরুতর ক্ষতি’ হতো।
আরও পড়ুন
মার্কিন প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে নামকরণ করা ‘লিন্ডসে গ্রাহাম আইন’-এ রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি পুতিন এবং দেশটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়েছিল। এ আইনে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগও ছিল।
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের ট্যাংকারগুলোর ওপরও বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা ছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো ক্রেমলিন বা পুতিনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে শুক্রবার সামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় পুতিন বলেছিলেন, মস্কো পূর্ব ইউক্রেনের বাকি অংশও দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তিনি একে ‘দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেন। এর পর ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা শুরু করেছে। সূত্র: এএফপি
নাঈম/
আরও পড়ুন
নুডলস খাওয়ার পর একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
ছবি: এআই
-->ভারতের গ্রেটার নয়ডার একটি গ্রামে রাতের খাবারে নুডলস খাওয়ার পর একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, খাদ্যে বিষক্রিয়া সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে তারা খাবার হিসেবে নুডুলস খেয়েছিলেন, তারপর এমন ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- মহেশ (৩৭), তার স্ত্রী ললিতা (৩৫) এবং তাদের তিন সন্তান। তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। দুই ছেলের মধ্যে একজনের বয়স ১১ অন্যজন তিন বছর। এছাড়া একমাত্র মেয়ের বয়স সাত বছর।
নয়ডা পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহত দম্পতির মায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিবারটি শুক্রবার রাতে নুডলস খেয়েছিল। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়েছেন।
আরও পড়ুন
পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে তারা এ ঘটনা সম্পর্কে খবর পায়। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, একটি অ্যাম্বুলেন্স, ফরেনসিক দল এবং খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
গ্রেটার নয়ডার সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার সিসোদিয়া বলেন, ‘শুক্রবার রাতে রাতের খাবার খাওয়ার পর তারা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে মনে হচ্ছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মরদেহ দেখতে পাই। কী পরিস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। এছাড়া পরিবারটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন
নয়ডা পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, একটি ফিল্ড ইউনিট ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা করছে এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করছে। মৃত্যুর বিষয়ে আইনি তদন্তপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এএফ/
আরও পড়ুন
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি: ধর্মীয় মেরুকরণ ও পপুলিজমের রাজনীতি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
ছবি: এআই
-->দক্ষিণ এশিয়ার আধুনিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো-রাজনৈতিক মতাদর্শ, সুশাসন বা জনকল্যাণমুখী ভাবনার চেয়ে ধর্মীয় আবেগ ও পরিচয়ভিত্তিক সংবেদনশীলতাকে ব্যবহার করার প্রবণতা। কোনো কোনো রাজনীতি বিশ্লেষক বিদ্রূপ করে হোক বা শ্লেষাত্মক ভাষায় হোক, রাজনৈতিক দলগুলোর এমন অন্ধ আনুগত্য ও সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় এজেন্ডাভিত্তিক অবস্থানকে ব্যঙ্গাত্মক পরিভাষায় সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেন। তবে এই হালকা চটুলতার গভীরে লুকিয়ে আছে দক্ষিণ এশীয় রাজনীতির এক বিষাদময় ভূ-রাজনৈতিক সত্য।
ভারতের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং বাংলাদেশের কিছু ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতির ইতিহাস, রূপরেখা ও কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-উভয় দলই ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় আবেগকে ভিত্তি করে নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে তুলেছে। একদিকে ভারতে বিজেপি যখন ‘গো-রক্ষা’ বা ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বহুল আলোচিত জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় এজেন্ডা সামনে এনে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ভোট ব্যাঙ্ক সুসংগঠিত করে, অন্যদিকে বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা ও কঠোর সাংগঠনিক কাঠামোর দোহাই দিয়ে তাদের দলীয় বলয় ও আদর্শিক ভিত্তি বজায় রাখে।
প্রথমত, বিজেপি-র রাজনীতির ক্ষেত্রে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক বা সামাজিক সংকটের চেয়ে অনেক সময় প্রতীকী ধর্মীয় বিষয়াদি প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। ‘গো-রক্ষা’ কেন্দ্রিক রাজনীতি বা নির্দিষ্ট ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের প্রসার সমাজে কেবল উগ্রতাই বাড়ায়নি, বরং প্রান্তিক গোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের মাঝে তৈরি করেছে গভীর নিরাপত্তাহীনতা। অর্থনৈতিক নীতি কিংবা জাতীয় উন্নয়নের চটকদার বিজ্ঞাপনের পেছনে এই পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতিই মূলত তাদের শক্তির মূল আধার হিসেবে কাজ করে।
আরও পড়ুন
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও রাস্তা সম্প্রসারণের নামে একের পর এক ঐতিহাসিক মসজিদ, সুফি দরগাহ ও ধর্মীয় স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এর পাশাপাশি ঈদুল আজহায় ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী পশু কোরবানি দিতে গিয়ে প্রশাসনিক নানা বিধিনিষেধ ও চরম সামাজিকভাবে হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশটির মুসলিম ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের। মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দলের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
মানবাধিকার ও গবেষণা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুসারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কয়েক ডজন (বা অন্তত ২০ থেকে ৩০টিরও বেশি) মসজিদ, মাদ্রাসা ও সুফি দরগাহ প্রশাসনিক উচ্ছেদ কিংবা বিরোধের জেরে ভেঙে ফেলা হয়েছে।
আরও পড়ুন
অন্যদিকে, বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির একটি বড় দিক হলো তাদের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যকার অন্ধ আনুগত্য বা প্রথাবদ্ধ আদর্শিক চর্চা। যেখানে আধুনিক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে নেতৃত্বকে প্রশ্ন করা এবং স্বাধীন চিন্তার সুযোগ থাকা আবশ্যক, সেখানে দলটির রাজনীতিতে একক আদর্শিক সিদ্ধান্তের প্রতি প্রকাশ্য আনুগত্য প্রদর্শনই মুখ্য হয়ে ওঠে। এর ফলে রাজনৈতিক দলে চিন্তার স্বাধীনতা বা উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির চর্চা সংকুচিত হয়ে পড়ে।
এই দুই দেশের দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর দিক হলো সমাজে বিভাজন সৃষ্টি। ধর্ম ও পরিচয়কে রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় দক্ষিণ এশিয়ায় যে মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্য এক বিশাল হুমকি। যখন রাজনৈতিক দলগুলো কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সুশাসনের মতো মৌলিক বিষয়গুলোর চেয়ে আবেগভিত্তিক রূপক ও এজেন্ডাকে সামনে আনে, তখন আখেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণই।
দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর টেকসই উন্নয়ন ও স্থায়ী শান্তির জন্য পরিচয়ভিত্তিক ও আবেগকেন্দ্রিক রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। রাজনীতি হতে হবে জনকল্যাণমুখী, পরমতসহিষ্ণু এবং প্রগতিশীল। ধর্মাশ্রয়ী পপুলিজম কিংবা অন্ধ অনুসরনের রাজনীতি কোনো দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করতে পারে না; বরং এটি সমাজকে আরও সংঘাত ও পিছিয়ে পড়ার দিকে ঠেলে দেয়।
আরও পড়ুন
সৌদি-হুতি সংঘাত ও লোহিত সাগর সংকট: টেকসই সমাধানে করণীয় কী?
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->এক দশকের কাছাকাছি সময় ধরে চলা সৌদি-হুতি সংঘাত এবং সাম্প্রতিক লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক পথকেন্দ্রিক সামরিক উত্তেজনা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকেই অস্থিরতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। একের পর এক সামরিক পদক্ষেপ, বিমান হামলা কিংবা বিদেশি হস্তক্ষেপ যখন পরিস্থিতিকে শান্ত করার বদলে আরও জটিল করে তুলেছে, তখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে সংঘাত বাড়াল সমাধান সম্ভব নয়। সামরিক শক্তির প্রদর্শনী বাদ দিয়ে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা, মানবিক চাহিদা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সমন্বয়ে একটি সুদূরপ্রসারী ও বাস্তবায়নযোগ্য পথ খোঁজা এখন সময়ের দাবি।
বাস্তবসম্মত আলোচনার প্রথম ধাপ হলো সামরিক কৌশলের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা। গত এক দশকে বিশ্ব দেখেছে, অত্যাধুনিক বিমানশক্তি বা বহুজাতিক জোট গঠন করেও হুতিদের সামরিকভাবে পুরোপুরি স্তব্ধ করা যায়নি। বরং এই সংঘাত দিন দিন নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাই এই সংকট সমাধানের মূল চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে সরাসরি ও সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগে।
সৌদি-হুতি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান ও আস্থা তৈরি
ওমানের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে যে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ যোগাযোগ বজায় রয়েছে, তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ দিতে হবে। টেকসই সমাধানের জন্য শুরুতেই বড় কোনো রাজনৈতিক চুক্তিতে না গিয়ে ছোট ছোট 'বিশ্বস্ততা বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ' নেওয়া প্রয়োজন। যেমন-ইয়েমেনের অবরুদ্ধ বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করা এবং এর বিনিময়ে হুতিদের পক্ষ থেকে সীমান্ত আক্রমণ ও সৌদি তেল অবকাঠামোতে ড্রন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রদান করা।
আরও পড়ুন
ইয়েমেনের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও অর্থনৈতিক সচলতা:
সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণ হলো ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভাজন এবং দীর্ঘকাল ধরে লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বন্ধ থাকা। রিয়াদ ও সান’আর মধ্যে একটি যৌথ অর্থনৈতিক ফান্ড বা নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে তেল-গ্যাস বিক্রির অর্থ দিয়ে কর্মচারীদের বকেয়া বেতন মেটানোর ফর্মুলা তৈরি করা যেতে পারে। এটি ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমাবে এবং হুতিদের রাজনৈতিকভাবে নমনীয় করতে পারে।
আরও পড়ুন
লোহিত সাগর সংকটকে গাজা যুদ্ধ ও আঞ্চলিক রাজনীতি থেকে পৃথকীকরণ
লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের হামলা মূলত আঞ্চলিক উত্তেজনারই প্রসারিত রূপ। এটি বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে দুটি সমান্তরাল কৌশলে হাঁটতে হবে। একদিকে, ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা জোরদার করা, যা হুতিদের লোহিত সাগরে হামলার প্রধান রাজনৈতিক অজুহাতটি নিষ্ক্রিয় করবে। অন্যদিকে, মার্কিন-যুক্তরাজ্য সামরিক জোটের বিমান হামলার বদলে জাতিসংঘ বা নিরপেক্ষ আঞ্চলিক দেশগুলোর (যেমন ওমান ও আলজেরিয়া) মাধ্যমে হুতি নেতৃত্বকে এটি বোঝানো যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পথ নিরাপদ রাখা তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্যও অপরিহার্য।
আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর টেকসই কূটনৈতিক ভারসাম্য
চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া একটি বড় ইতিবাচক মাইলফলক। তবে ইয়েমেন সংকটে এর পূর্ণ সুফল পেতে ইরানকে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা হুতিদের কাছে উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ও ড্রন সরবরাহ বন্ধ রাখবে। পাশাপাশি, ইয়েমেনের দক্ষিণ অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং রিয়াদ ও আবুধাবির (সংযুক্ত আরব আমিরাত) মধ্যকার আঞ্চলিক নীতিগত দ্বন্দ্ব দূর করাও একটি স্থিতিশীল সমাধানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সর্বজনীন রাজনৈতিক সংলাপ
সৌদি-হুতি চুক্তি কেবল একটি বাহ্যিক যুদ্ধবিরতি এনে দেবে, কিন্তু ইয়েমেনের ভেতরের গৃহযুদ্ধ থামাবে না। তাই জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে উত্তর ইয়েমেনের হুতি, দক্ষিণাঞ্চলীয় অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ ও বিকেন্দ্রীভূত সরকার গঠনের ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন এবং সম্পদে সবার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো শাসনকাঠামো ইয়েমেনে টিকবে না।
একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলকে রাতারাতি শান্ত করা সহজ নয়। তবে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে যদি সামরিক অবস্থান থেকে সরে এসে অর্থনৈতিক পুনর্বাসন, আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং অভ্যন্তরীণ অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করা যায়, তবেই কেবল সৌদি-হুতি সংঘাতের ইতি টানা এবং লোহিত সাগরে স্বাভাবিক বাণিজ্য প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ধাপে ধাপে এসব বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ বাস্তবায়নই পারে এই দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংকটের স্থায়ী সমাধান আনতে।
