গাজীপুর মহানগরের ভারারুল এলাকায় পৈতৃক বসতভিটা দখল ও উচ্ছেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অধিগ্রহণের জমির ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকটি হিন্দু পরিবারের সদস্যদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের পাশাপাশি আদালতেও মামলা করেছেন তাঁরা। নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে গাজীপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য গোপাল চন্দ্র রায় জানান, গাজীপুর মহানগরের ভারারুল এলাকায় তাঁদের পৈতৃক ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি রয়েছে। ওই জমির একটি অংশ সরকার অধিগ্রহণ করার পর ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরিবারের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণের ওই টাকা তাঁদের কাছে দাবি করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জমি থেকে উচ্ছেদসহ নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
গোপাল চন্দ্র রায়ের অভিযোগ, গত ১৩ জুলাই সকালে আসকর আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। প্রতিবাদ করলে তাঁদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি বসতভিটা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় পুলিশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছিল। পরে তাঁরা জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আবারও হুমকি দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের বসতভিটা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বলে জানান তাঁরা।
মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জমি দখল ও উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে।
