দুর্গাপূজার উৎসবকে হিন্দি সিনেমায় কখনো গানে-নাচে, কখনো গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে, আবার কখনো বাঙালি সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ‘দেবদাস’, ‘কাহানি’ থেকে ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’; বিভিন্ন সিনেমায় দুর্গাপূজা পেয়েছে নানা মাত্রা।
গান ও নাচে উৎসবের উদযাপন :সঞ্জয় লীলা বানসালি ও করণ জোহরের মতো নির্মাতারা ‘ডোলা রে ডোলা’ এবং ‘ঢিনঢোরা বাজে রে’-এর মতো গান উপহার দিয়েছেন, যা সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ‘ডোলা রে ডোলা’ একটি আইকনিক গান। চলতি মাসে গানটি আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চেও জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, ‘ঢিনঢোরা বাজে রে’ গানের কোরিওগ্রাফির জন্য বৈভবী মার্চেন্ট দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। লাল রঙের আবহ, নারীত্বের উদযাপন এবং দেবী দুর্গার শক্তির প্রকাশ; সব মিলিয়ে গানগুলো দুর্গাপূজা উদযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর এসব গানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আমেজ যেন নতুন করে পর্দায় জীবন্ত হয়ে ওঠে।
গল্পে বড় মোড় এনে দেয় দুর্গাপূজা : দুর্গাপূজার জাঁকজমক ও মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ভারতীয় সিনেমায় বহুবার গল্পের বড় কোনো রহস্য উন্মোচনের পটভূমি হয়েছে। ২০১২ সালের ‘কাহানি’ সিনেমার শেষ দৃশ্যে বিদ্যা বালানের নকল অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি প্রকাশের কথা কে ভুলতে পারেন? সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় রহস্য উন্মোচন হিসেবে দৃশ্যটি এখনো আলোচিত।
‘গুন্ডে’ সিনেমাতেও দুর্গাপূজা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে এসেছে। উৎসবের আয়োজনে রণবীর সিং ও অর্জুন কাপুরের অভিনীত দুই চরিত্রের সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার চরিত্র তাদের একজনকে সেখানে নিয়ে যায়। উৎসবের চোখধাঁধানো আয়োজনের সঙ্গে নির্মম ও মর্মান্তিক সহিংসতার বৈপরীত্য গল্পকে নতুন দিকে এগিয়ে নেয়।
বাঙালি সংস্কৃতির জানালা দুর্গাপূজা : বাঙালি সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখার অন্যতম সুযোগ দুর্গাপূজার উৎসব। বলিউডও বিভিন্ন সিনেমায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। সুজিত সরকারের ‘ভিকি ডোনার’ সিনেমায় ইয়ামি গৌতমের অভিনীত বাঙালি চরিত্রটি আয়ুষ্মান খুরানার পাঞ্জাবি চরিত্রকে নিজের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এ সময় সে তাকে নিয়ে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে বেড়ায়।
‘বুলবুল’ সিনেমায় দুর্গাপূজা ও কালীপূজার উপস্থিতি বাংলার প্রেক্ষাপটকে আরো স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে, ‘পরিণীতা’ সিনেমায় পূজা মূল প্রেমের গল্পকে এগিয়ে নেওয়ার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। গল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে কোমলতা, ঈর্ষা ও আগলে রাখার প্রবণতার মতো অনুভূতিগুলোও উঠে এসেছে পূজার আবহে।
