এম.এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করা লোটো শোরুমের ম্যানেজার পিন্টু আকন্দ (৩৮) হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি মো. সিয়াম হোসেন ওরফে সাহসকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিণ দুলালপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-১২-এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানি (সিপিএসসি), বগুড়া এবং এসআরবি-৫-এর সিপিসি-৩, জয়পুরহাট ক্যাম্পের সদস্যরা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। গ্রেপ্তার সিয়াম বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার জিনুইর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সিয়াম পিন্টু আকন্দ হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি। তাঁকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
শোরুম থেকে তুলে নিয়ে হত্যা
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত পিন্টু আকন্দ বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানার সিও অফিস মোড়সংলগ্ন খন্দকার মার্কেটে অবস্থিত একটি লোটো শোরুমে প্রায় তিন বছর ধরে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শোরুমটির মালিক তৌফিক এলাহী সুজন।
২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা ৭ মিনিটে শোরুমের বেচাকেনা শেষ করে বন্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পিন্টু। এ সময় অজ্ঞাতনামা ছয় থেকে সাতজন ব্যক্তি শোরুমে প্রবেশ করে তাঁর সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তাঁকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে বাইরে অপেক্ষমাণ একটি সাদা হাইয়েস মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।
পিন্টুর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অপহরণকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তারা সিও অফিস মোড় থেকে নওগাঁ সড়কের দিকে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। শোরুমের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে মাইক্রোবাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৩২৬৮ বলে শনাক্ত করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারেন, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের কোমরভোগ থেকে কোমরপুরগামী পাকা সড়কের পাশে একটি পুকুরের উত্তর দিকে পিন্টুর মরদেহ পড়ে রয়েছে।
পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর নাক-মুখে সাদা স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুপচাঁচিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটিতে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৬৪, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। মামলা নম্বর ১৪।
গোয়েন্দা নজরদারির পর অভিযান
এসআরবি-১২-এর সিপিএসসি, বগুড়া এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য এবং পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে এসআরবি-১২-এর একটি আভিযানিক দল এসআরবি-৫, সিপিসি-৩, জয়পুরহাট ক্যাম্পের সহযোগিতায় নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিণ দুলালপাড়া এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সারোয়ার নামের এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই সিয়াম হোসেন ওরফে সাহসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-১২-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপরাধ দমন, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে এসআরবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, পিন্টু আকন্দ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামির গ্রেপ্তারকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, জড়িত অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার বিস্তারিত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
