এনসিএলে ব্যাটারদের দাপট
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চতুর্থ রাউন্ডের খেলায় রানের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যাটাররা। বল হাতে বোলারদের যখন রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হচ্ছে, ঠিক তখনই রান উৎসবের জোয়ার বইয়ে দিয়েছেন দেশের তারকা ক্রিকেটাররা। একদিনেই দেখা মিলেছে দুই ডাবল সেঞ্চুরি ও দুই সেঞ্চুরির।
রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরিতে ট্রিপল সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে থামলেও রেকর্ড গড়েছেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। একই সঙ্গে বগুড়ায় চোখধাঁধানো ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ময়মনসিংহের ইন-ফর্মে থাকা ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম। আর প্রথম তিন রাউন্ডে শতক ছোঁয়া দূরত্বে থেকে আক্ষেপ করা সিলেট অধিনায়ক জাকির হাসান এবার তুলে নিয়েছেন চমৎকার সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও।
নাঈম-অঙ্কনের রেকর্ড জুটি ও ঢাকার পাহাড়সম রান
রাজশাহীতে ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই রানবন্যার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নাঈম। রোববার সেই ইনিংসটিকে তিনি টেনে নিয়ে যান প্রায় তিনশর কাছাকাছি। শেষ পর্যন্ত বড় শটের খোঁজে ২৮২ রান করে সাজঘরে ফেরেন ঢাকার এই ওপেনার। ৩৬৯ বলের এই ইনিংসে ২১টি চারের পাশাপাশি ৭টি ছক্কা হাঁকান নাঈম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটিই তার ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। চলতি লিগে টানা তিন সেঞ্চুরিতে তার মোট সংগ্রহ এখন ১১২.২০ গড়ে ৫৬১ রান।
শুধু নাঈম একা নন, তার সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫৩৪ বলে ৩৬৩ রানের এক ম্যারাথন জুটি গড়ে রেকর্ড গড়েন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির নতুন রেকর্ড। ফেরার আগে ১৪টি চার ও ৮টি ছক্কায় ২৮৯ বলে ১৬৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন অঙ্কন। এটি তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।
এই দুজনের বড় সংগ্রহের পরও ঢাকার বাকি ব্যাটাররা সুবিধা করতে পারেননি। রাজশাহীর লেগ স্পিনার ওয়াসি সিদ্দিকি ৪ উইকেট শিকার করলে ৫২১ রানে গুটিয়ে যায় ঢাকা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে সুমন খানের বোলিং তোপে মাত্র ১০ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে রাজশাহী। পরে নাঈম আহমেদ ও সাব্বির রহমানের ৮০ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেয় তারা। ওয়ানডে স্টাইলে খেলে ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন সাব্বির রহমান। তবে দিনের শেষ ভাগে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে দিন শেষে রাজশাহী ৬ উইকেটে ১০৩ রান সংগ্রহ করেছে। ফলো-অন এড়াতে তাদের প্রয়োজন আরও ২৬৯ রান।
মাহফিজুলের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি
বগুড়ার মাঠে আগের তিন রাউন্ডে দুই সেঞ্চুরি ও দুই ফিফটিতে দারুণ ছন্দে ছিলেন ময়মনসিংহের ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম। চতুর্থ রাউন্ডে এসে সেটিকেই ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটার। চট্টগ্রামের বিপক্ষে আগের দিন ১৫৬ রান নিয়ে খেলা শুরু করা মাহফিজুল কোনো ঝুঁকি না নিয়ে অত্যন্ত সাবধানী ব্যাটিংয়ে ৩৩৮ বলে পূর্ণ করেন নিজের ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ২১৭ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন তিনি।
চলতি লিগে ৭ ইনিংসে তিন সেঞ্চুরি ও দুই ফিফটিতে ১০২.৮৩ গড়ে মাহফিজুলের সংগ্রহ এখন ৬১৭ রান। এছাড়া ষষ্ঠ উইকেটে মাহফিজুলের সঙ্গে ১২১ রানের দারুণ জুটি গড়েন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শুভাগত হোম। তার ব্যাট থেকে আসে ১০১ বলে ৭১ রান। ৭ উইকেটে ৪৬৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ময়মনসিংহ।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করে চট্টগ্রামের দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমান। উদ্বোধনী জুটিতে ১০৯ রান তোলেন তারা। ৪২ রান করা সাদিকুরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রকিবুল হাসান। আর দিনের শেষ দিকে সেঞ্চুরির পথে থাকা জয়কেও (৭৬ রান) থামান ময়মনসিংহ অধিনায়ক। দিন শেষে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৩৪ রান।
আক্ষেপ ঘুচিয়ে জাকিরের সেঞ্চুরি
আগের তিন রাউন্ডে যথাক্রমে ৬০, ৬৫ ও অপরাজিত ৭১ রানের ইনিংস খেলে ভালো শুরু করেও তা বড় করতে না পারার আক্ষেপে পুড়েছিলেন সিলেট অধিনায়ক জাকির হাসান। তবে চতুর্থ রাউন্ডে আর সেই ভুল করেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। খুলনার বিপক্ষে কক্সবাজারের মাঠে দলের দুঃসময়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। দিন শেষে ১৬০ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন জাকির।
বৃষ্টির কারণে প্রথম দিন মাঠে বল গড়াতে না পারলেও দ্বিতীয় দিনে টস জিতে ব্যাট করতে নামে সিলেট। উদ্বোধনী জুটিতে মুবিন আহমেদ দিশানকে সঙ্গে নিয়ে ১৭০ রান যোগ করেন জাকির। তরুণ ওপেনার দিশান ৭টি চার ও ১ ছক্কায় ১৪৩ বলে ৭১ রান করে আউট হন। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের ১৭তম সেঞ্চুরি তুলে নেন জাকির। ১৫টি চার ও ৪টি ছক্কার ইনিংসে এখন তার সামনে ডাবল সেঞ্চুরির সুবর্ণ সুযোগ। দিন শেষে সিলেটের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৮০ রান।
রাফসানের দুর্ভাগ্যের আউট
সিলেটের একাডেমি মাঠে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরের ৪০২ রানের জবাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে বরিশাল। দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৭৯ রান।
রংপুর প্রথম দিনে ৫ উইকেটে ৩২০ রান নিয়ে শুরু করলেও আর মাত্র ৮২ রান যোগ করতেই বাকি ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৯ রান করেন আবদুল্লাহ আল মামুন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার রাফসান আল মাহমুদ ও অধিনায়ক ইফতেখার হোসেনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এগোতে থাকে বরিশাল। ৩৩ রান করে ইফতেখারের বিদায়ের পর ফজলে মাহমুদকে নিয়ে সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন রাফসান। তবে দিন শেষ হওয়ার ঠিক আগের ওভারে বিলাসী ড্রাইভের চক্করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ১৬৮ বলে ৮৯ রান করেন তিনি। দিন শেষে ২৯ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন ফজলে মাহমুদ।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: এনসিএল
১৩ অক্টোবর ২০২৬
০৬ অক্টোবর ২০২৬
০৫ অক্টোবর ২০২৬
