মোঃ রেজাউল করিম, ঈদগাঁও প্রতিনিধি।
শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে লাখো মানুষের সমাগমে উৎসব মুখর হয়ে উঠে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর থেকে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে শুরু হয় দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন। এতে বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলনমেলা।
আয়োজকদের ধারণা, এবার সৈকতে অন্তত ৪০০ প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। এ আয়োজন দেখতে তিন থেকে চার লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে প্রতিমা নিয়ে আসেন পূজার্থীরা। ঢাক-ঢোল, উলুধ্বনি ও ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল সৈকত এলাকা।
এদিকে দুর্গাপূজা, প্রবারণা পূর্ণিমা ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে বেড়েছে পর্যটকের চাপ। হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজে বাড়ছে অতিথির ভিড়। হোটেল মালিকদের দাবি, অনেক হোটেলে আগাম কক্ষ বুকিং প্রায় শতভাগে পৌঁছেছে।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, তারকা মানের ২০টির বেশি হোটেলে প্রায় সব কক্ষ এবং মাঝারি মানের হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজে প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে।
২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটির সময়ে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল শুক্কুরের আশা, ১০ দিনের ছুটিতে অন্তত ১৫ লাখ পর্যটকের সমাগম হলে পর্যটন খাতে ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিমা বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের হয়রানি রোধ ও সেবা নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের ঐতিহ্য। এ সম্প্রীতি অটুট রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু জানান, প্রশাসনের সহযোগিতায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বৃহৎ এ আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।
এবার কক্সবাজার জেলায় ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ দিনের পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বিদায়বেলায় ভক্তদের প্রার্থনা—অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে আগামী বছর আবারও ফিরে আসবেন দেবী দুর্গা।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল চট্টগ্রামনিউজ.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, মতামত, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি । আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।
