ছবি: সংগৃহীত
-->আজ ২৪ অক্টোবর, জাতিসংঘ দিবস। ১৯৪৫ সালের এই দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে জাতিসংঘ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে গঠিত সংস্থাটি ৮১ বছরে পদার্পণ করেছে। বর্তমানে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে কাজ করছে বৈশ্বিক এ প্রতিষ্ঠান।
জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, মানবাধিকার রক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত, মানবিক সংকট, বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সংস্থাটির কার্যকারিতা নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন রয়েছে।
স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর থেকে বহুপক্ষীয় কূটনীতি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে দেশটি।
আরও পড়ুন
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক মিশনে কর্মকর্তা পাঠানোর মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুরু হয়। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং স্থিতিশীলতা ফেরাতে বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সেনা ও পুলিশ সদস্য পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ অবদানকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, অভিবাসীদের অধিকার, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা। বিশেষ করে মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চেয়ে আসছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দিবসটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শান্তি ও মানবাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার সুযোগ তৈরি করে।
বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও সংকটের এই সময়ে জাতিসংঘের কার্যকারিতা বাড়াতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
