Published on
:
2 min read
চুলের যত্ন বা হেয়ার কেয়ার করলে তবেই স্বাস্থ্যকর, ঘন ও মজবুত চুল সম্ভব। এই আশা নিয়েই দিন-রাত এক করে কেশচর্চা করেন। কিন্তু অতিরিক্ত চর্চা বা ভুল উপায়ে চুলের যত্ন করতে গিয়ে অজান্তেই বড় ক্ষতি করে ফেলছেন না তো? কেশচর্চা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল-শ্যাম্পু-কন্ডিশনার ছাড়াও বাজারে আরও অনেক ধরনের প্রসাধনী পাওয়া যায়। চুলের যত্নে তার প্রায় সবই না জেনে মাথায় ঢেলে ফেলেন। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছুই হয় না। উল্টে চুল ঝরার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। অতিরিক্ত পরিচর্যায় কেন চুল ঝরা বেড়ে যায় জানেন?
ডার্মাটোলজিস্টরা বলছেন, তার একটি বড় কারণ হলো অতিরিক্ত মাত্রায় শ্যাম্পু করা। বিশেষ করে যে সব শ্যাম্পুতে সোডিয়াম লরেট সালফেট (SLS) রয়েছে, সেগুলি স্ক্যাল্পের মারাত্মক ক্ষতি করে। প্রতিদিন চুল ধুলে স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল বা সেবাম নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে স্ক্যাল্প শুষ্ক ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে। এর ফলে চুল গোড়া থেকেও আলগা হয়ে পড়ে। সহজেই ভেঙে বা ছিঁড়ে যেতে শুরু করে। তার মানে এই নয় যে শ্যাম্পু করা ক্ষতিকর। অতিরিক্ত কোনও কিছুই ভালো নয়। রাসায়নিক-যুক্ত শ্যাম্পু চুলের ফলিকল নষ্ট করে দেয়।
এ ছাড়াও খুব শক্ত করে পনিটেল বাঁধা, খোপা করা বা হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহারের ফলে চুলের গোড়ায় মারাত্মক চাপ পড়ে। গোড়ায় লাগাতার টানের ফলে ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একে চিকিৎসা পরিভাষায় ‘ট্র্যাকশন অ্যালোপেশিয়া’ বলা হয়। যাঁরা নিয়মিত খুব টাইট করে চুল বাঁধেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে সচেতন হয়ে হেয়ারস্টাইল চেঞ্জ করলে এই ধরনের ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
যাঁরা চুল পড়ার সমস্যার কারণে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করানোর কথা ভাবছেন, তাঁদের চিকিৎসকরা সবার আগে প্রতিদিনের হেয়ার কেয়ার রুটিন সম্পর্কে জানতে চান। কারণ, মাথার যে সমস্ত ফলিকল স্থায়ী ভাবে নষ্ট হয়ে গেছে, ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে সেখানে নতুন চুল গজানো সম্ভব। কিন্তু প্রতিদিনের ভুল হেয়ার কেয়ারের কারণে যদি নতুন চুল বা স্ক্যাল্পে লাগাতার ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, তবে কোনও সার্জারিই স্থায়ী সমাধান দিতে পারবে না। তা হলে সমাধান কোন পথে?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, চুলে অতিরিক্ত প্রসাধনী যোগ না করে রুটিনকে যথাসম্ভব সহজ বা সিম্পল রাখুন:
চুল ধোয়ার ফ্রিকোয়েন্সি কমিয়ে দিন।
হিট স্টাইলিং বা ব্লো ড্রাই করা থেকে বিরত থাকুন।
যদি নিয়মিত দুই বা তিনটির বেশি প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন, তবে তা সত্যিই উপকারে লাগছে কি না তা কোনও বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে যাচাই করে নিন।