কুড়িগ্রামের উলিপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দাদা বাচ্চু মিয়াকে (৭০) হত্যার পর পালিয়েছে নাতি রাব্বি (২২); এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং হত্যার কারণ জানা যায়নি।
কোন পূর্ব বিরোধ না থাকলেও কুড়িগ্রামের উলিপুরে ঘরের ভিতরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে দাদাকে হত্যা করেছে নাতি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধরনী বাড়ি ইউনিয়নের পন্ডিত পাড়া গ্রামে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেনো এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে তার কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, গতরাতে খাওয়া শেষে রাত ১০টার দিকে নাতি রাব্বি (২২) ও দাদা বাচ্চু মিয়া (৭০) রাব্বিদের ঘরে ঘুমাতে যায়। রাত ১টার দিকে রাব্বি দাদাকে হত্যার পর তার আপন দাদা এক্কাবর আলীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে ছোট দাদা বাচ্চু মিয়াকে হত্যা করেছে বলে জানায়। দাদা এক্কাবর আলী ঘরের ভিতরে ঢুকে ছোট ভাই বাচ্চুর হাত পা বিচ্ছিন্ন করা লাশ বিছানায় পড়ে থাকা দেখে তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে আসার আগেই ঘাতক নাতি রাব্বি পালিয়ে যায়।
ঘাতক নাতীর দাদা এক্কাবর আলী জানান, তার আপন ছোট ভাই বাচ্চু মিয়া (৭০) প্রায় ৫০ বছর যাবত রংপুরে সপরিবারে বসবাস করে আসছে। ঘটনার দু'দিন আগে সে আমার বোনের বাড়ি থেকে আমার বাড়িতে বেড়াতে আসে। আর আমার ছেলে মিঠু মিয়া, রাব্বি ও রাব্বির বাবা গাজীপুরের মনিপুর এলাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করার সুবাদে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে। ঘটনার দিন নাতি রাব্বি বাড়িতে এসে আমার ছোট ভাই বাচ্চুর সাথে একই রুমে ঘুমাতে যায়। এরপর রাত একটার দিকে নাতি রাব্বি আমাকে ও আমার স্ত্রীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে একটি দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানায়। আমি ঘরে যাওয়ার আগে নাতির হাতে ছোরা দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হই। পরে সে হাত থেকে ছোরা মাটিতে ফেলে দিলে ঘরের ভিতরে গিয়ে ছোট ভাইয়ের ছিন্ন ভিন্ন লাশ খাটের উপরে দেখতে পাই। এটাই ছিল ঘাতক রাব্বির দাদার ভাষ্য।
উলিপুর থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ উদ্ধারের পর মর্গে পাঠিয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা রেকর্ডের প্রস্তুতি চলছে বলে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শওকত আলী জানান।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসার জন্য ৩ জনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
কুড়িগ্রামে নিজ সন্তানের হাতে ছুরিকাঘাতে মা ও বাবা খুন - নাতির হাতে দাদা খুন, বিষয়গুলো ভাবিয়ে তুলছে সচেতন মহলকে। বড় উদ্বেগের বিষয় বলেও মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিক। পরিবারের আপনজনের হাতে খুন খারাপি মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী।
গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পলাশবাড়ী, পশ্চিম পাড়া এলাকায় বরেন্দ্র অফিসের সামনে মাদকাসক্ত ছেলে শোভনের ছুরিকাঘাতে মা মুনিরা বেগম (৫৬) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। খুনির বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সরদার আলী (৬৫) পুত্রের ছুরিকাঘাতে আশংকাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরপর আজ ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নাতির হাতে দাদা খুন। এগুলো কোনো ভাবেই মানতে পারছেন না মানুষজন।
