জাল নোট দিয়ে জুয়েলারি দোকান থেকে স্বর্ণের চেইন আত্মসাৎ করার অভিযোগে মো. রিয়াজুল ইসলাম ও মো. রোমান নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে রাজশাহীর সাহেববাজারের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে আত্মসাৎকৃত ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন এবং একই কৌশলে বগুড়া থেকে হাতিয়ে নেওয়া আরও একটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) আরএমপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজারে অবস্থিত ‘আশা জুয়েলারি স্টোরে’ যান অভিযুক্ত রিয়াজুল ইসলাম। সেখানে তিনি নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান যে, এক কর্মকর্তার মেয়ের বিয়ের জন্য তাঁর গয়না কেনা প্রয়োজন। ওই দিন তিনি ৭০০ টাকা দিয়ে একটি নাকফুল কেনার পাশাপাশি আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন পছন্দ করেন এবং পরে নেওয়ার কথা বলে চলে যান।
এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর চেইনটি নিতে তিনি পুনরায় ওই দোকানে উপস্থিত হন। দোকানে কাঙ্ক্ষিত চেইনটি না থাকায় পাশের অন্য একটি দোকান থেকে ২২ ক্যারেটের আট আনা এক পয়েন্ট ওজনের একটি চেইন এনে তাঁকে দেওয়া হয়। যার বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। চেইনটির দাম হিসেবে রিয়াজুল ১ হাজার টাকা মূল্যমানের ১১৫টি নতুন জাল নোট দোকানদারকে প্রদান করেন।
দোকানমালিকের বাবা নোটগুলো যাচাইয়ের জন্য পাশের আরেকটি দোকানে গেলে সেগুলো জাল বলে শনাক্ত হয়। কিন্তু দোকানদার ফিরে এসে দেখেন প্রতারক রিয়াজুল ততক্ষণে দোকান থেকে পালিয়ে গেছেন। এভাবে সুকৌশলে জাল নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন নিয়ে চম্পট দেন তিনি।
ঘটনার পর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএমের নির্দেশনায় বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ ও আরএমপির সিসি ক্যামেরা মনিটরিং টিম যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার মাধ্যমে অভিযুক্ত রিয়াজুলের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার খিলক্ষেত থানার জামতলা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজুল জানান, তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার উত্তর মারাবাটি গ্রামের হারুন অর রশীদের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার খিলক্ষেতের টানপাড়া এলাকায় বসবাস করে আসছেন।
পুলিশ আরও জানায়, রিয়াজুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জামতলা মোড় এলাকার ‘মা জুয়েলার্স’-এ অভিযান চালিয়ে দোকানটির মালিক রোমানকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে রাজশাহীর দোকান থেকে আত্মসাৎ করা স্বর্ণের চেইনটি উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, রিয়াজুল গত ৬ অক্টোবর বগুড়া নিউ মার্কেটের স্বর্ণপট্টিতে অবস্থিত ‘তামান্না জুয়েলার্স’ থেকেও ঠিক একই কৌশলে আট আনা তিন রতি তিন পয়েন্ট ওজনের (মূল্য ১ লাখ ২২ হাজার টাকা) আরও একটি স্বর্ণের চেইন জাল নোট দিয়ে আত্মসাৎ করেছিলেন। পুলিশ বগুড়ার ওই চেইনটিও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৪ হাজার ৯৭২ টাকা জব্দ করা হয়।
পুলিশের রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, প্রতারক রিয়াজুল দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় প্রতারণা করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে রংপুরের বদরগঞ্জ থানা ও ডিএমপির খিলক্ষেত থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত উভয় আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জেএইচআর
