জ্বালানি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের
যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেনের জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। জবাবে রাশিয়ার জ্বালানি খাতেও চলেছে ইউক্রেনের পাল্টা হামলা। ইউক্রেন দূরপাল্লার অ্যাটাক ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার সীমানার ভেতরে তেল রিফাইনারি ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য বানিয়ে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে।
রাশিয়ার অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো তাদের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি। তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব দিয়েই যুদ্ধের বিশাল বাজেট ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির খরচ মেটায় দেশটি। ফলে ইউক্রেন রিফাইনারিগুলো রীতিমতো অচল করে দিয়ে রাশিয়ার এই আয়ের পথকে বড় হুমকির মুখে ফেলেছে।
তবে এই দুই দেশ ভবিষ্যতে আর কখনও পরস্পরের জ্বালানি খাত লক্ষ্য করে হামলা করবে না। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, দু’পক্ষ ইতোমধ্যে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতির’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ১২ অক্টোবর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। উভয়ের সম্মতির ভিত্তিতে এই চুক্তি হয়েছে এবং আমি দু’পক্ষকে আহ্বান জানাব— এই চুক্তি যেন না ভাঙে।”
কিন্তু ট্রাম্পের এই পোস্টটি আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। হামলার পর পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ারশ সিকিউরিটি ফোরামের সম্মেলনে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যোগ দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ''ইউক্রেন এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে প্রস্তুত থাকলেও রাশিয়া যে বাস্তবে কোনো যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়নি, এই অব্যাহত হামলাই তার প্রমাণ। রাশিয়া যদি চায় যে আমরা তাদের তেল শোধনাগার ও তেল রপ্তানির ওপর দূরপাল্লার হামলা বন্ধ করি, তাহলে রাশিয়াকেও আমাদের জ্বালানি ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং আমাদের জনগণকে হত্যা করা বন্ধ করতে হবে। আমরা আমেরিকার কাছে কৃতজ্ঞ। জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির ধারণাটিকে আমরা সমর্থন করি। এখন রাশিয়াকেও দেখাতে হবে যে তারা এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত। আর আমেরিকানদের যদি প্রয়োজন হয়, তবে আমরা এমন সব নিশ্চয়তাপত্রে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত যা নিশ্চিত করবে যে রাশিয়ার ওপর আস্থা রাখা যায়।"
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতির কারণে সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকে ৬ মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে জেলেনস্কি আরও বলেন, "রাশিয়ার ওপর আমেরিকার চাপ বাড়ানো প্রয়োজন। নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করে এবং কোনো ছাড় না দিয়ে এই চাপ আরও বাড়াতে হবে—যাতে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি। জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি, উত্তেজনা কমানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যান্য পদক্ষেপগুলো বাস্তবে প্রয়োজন—শুধুমাত্র 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।''
এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইউক্রেনে জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও কোনো পক্ষই এমন কোনো চুক্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। জেলেনস্কির সঙ্গে সম্পর্কের নাটকীয় অবনতির প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনে নতুন প্রেসিডেন্ট চাচ্ছেন ট্রাম্প। তিনি ইউক্রেনীয়দের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমপক্ষে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চাইছেন জেলেনস্কি।
