ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। শনিবার শিক্ষার্থী, ট্রেড ইউনিয়ন এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীর আয়োজিত এই দ্বিতীয় পর্যায়ের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি।
এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্য দিয়ে—তারা স্কুলের পরিবেশ উন্নত করা এবং কর্মী সংকট দূর করার দাবি জানিয়েছিল। পরবর্তীতে কিছু জায়গায় এই আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়। জীবনযাত্রার ব্যয়ের উর্ধ্বগতির গতির কারণে শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে ট্রেড ইউনিয়ন ও বিরোধী দলগুলো।
শনিবার দিনের শুরুতে ১০০টিরও বেশি জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়। আগের সপ্তাহগুলোতে কিছু বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় এবার অতিরিক্ত কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দেশের অনেক জায়গায় কারফিউ জারি করা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ফ্রান্সের কট্টর বামপন্থী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোঁ প্যারিসের কেন্দ্রে জনতার সাথে পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। ফরাসি রাজধানীতে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরপরই এই রাজনীতিবিদকে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে ধরতে দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীরা পতাকা ওড়ান, বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং মেগাফোনে স্লোগান দিতে থাকেন; এভাবেই বিশাল এই বিক্ষোভ মিছিলটি এগিয়ে চলতে শুরু করে।
পশ্চিম ফ্রান্সের নঁত শহরে আয়োজিত এক বিক্ষোভে ফরাসি দাঙ্গা পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় ঘেরা অবস্থায় দেখা গেছে। নঁত সেখানে পুলিশ জানিয়েছে, একটি অননুমোদিত সমাবেশের চারপাশে থাকা নিষিদ্ধ এলাকার বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টার পর বিক্ষোভকারীদের দমাতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়েছে।
বোর্দো শহরে, সব ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এবং ট্রাম চলাচল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা ‘প্লাস দে লা বুর্স’ -এ জড়ো হয়েছেন।
জিরোন্দ অঞ্চলের ‘সিজিটি-কমার্স অ্যান্ড সার্ভিসেস’ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ব্রিজিট কুদের্ক ‘ল্য মঁদ’ পত্রিকাকে বলেন, “বিক্ষোভ নিষিদ্ধ হোক বা না হোক, আমরা হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশে থাকব এবং তাদের একা ফেলে আসব না। আমরা অভিভাবক, একসময় আমরাও তরুণ ছিলাম, আবার আমরা শ্রমিকও।”
নিস শহরে পুলিশ জানিয়েছে, সব ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ‘প্লাস মাসেনা’-তে কয়েকশ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন; পুলিশ তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা লরঁ নুনেস জানিয়েছেন, সারা দেশে বিভিন্ন মিছিলে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন, যেখানে গত শনিবার এই সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার। তিনি আরও জানান, কর্তৃপক্ষ ১৩৬টি স্থানে জনসমক্ষে বিক্ষোভ কর্মসূচি শনাক্ত করেছে, যা আগের সপ্তাহান্তের ২৬৪টি কর্মসূচির তুলনায় কম।
