Published on
:
2 min read
এই সময়, শিলিগুড়ি: দুর্গোৎসব না শারদোৎসব? পুজোয় আমিষ খাবেন নাকি নিরামিষ? বিগত কিছু দিন ধরে একাধিকবার এই বিতর্কে সরগরম হয়েছে গোটা রাজ্য। এর সঙ্গে এ বার জুড়ল নতুন ইস্যু। পুজোর কেনাকাটা করতে হবে হিন্দু দোকান থেকে, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের এই 'ফতোয়া' পোস্টারে বিতর্ক ছড়াল শিলিগুড়িতে।
যদিও রবিবার সকাল থেকে পোস্টারের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে থাকলেও সন্ধ্যায় ঢোক গিললেন মঞ্চের সদস্যরা। ঘটনার একযোগে নিন্দায় মুখর হয়েছেন ডান-বাম নেতারা। রবিবার সকাল থেকেই শিলিগুড়ির দাদাভাই স্পোর্টিং ক্লাব মোড়, ভারতনগর, এনজেপি, প্রধাননগর-সহ বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের বিভিন্ন পোস্টার দেখা যায়। কোনও পোস্টারে লেখা, 'বিরিয়ানি খেতে বারণ করা হচ্ছে না। বিরিয়ানি খান কিন্তু হিন্দু দোকান থেকে।'
আবার কোনও পোস্টারের বয়ান, 'চলুন, এ বার পুজোয় পুজো সামগ্রী হিন্দু দোকান থেকেই কেনাকাটি করি।' এক জায়গায় লেখা, 'পাড়ায় ফেরিওয়ালা আসছে? ফেরিওয়ালা কে? তা একটু ভাবুন।'
Ei Samay
মঞ্চের শিলিগুড়ি মহানগর সংযোজক অভিষেক দাসের বক্তব্য, 'শুধুমাত্র এক ধরনের পোস্টারকে নিয়েই বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা তো নেশামুক্ত সমাজ গড়ার কথা বলেও বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার সাঁটিয়েছি। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় সংস্কৃতির ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়েছে।' কিন্তু এ ভাবে কি ফতোয়া দেওয়া যায়, প্রশ্ন শুনেই ফোন কেটে দেন তিনি। এই পোস্টারের নিন্দা করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'শহরে তো বিভিন্ন জাতি-ধর্মের ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। এ ভাবে ফতোয়া দিলে তাঁরা ব্যবসা করবেন কী করে? ওরা ধর্মনিরপেক্ষ দেশের কাঠামো নষ্ট করতে চাইছে।'
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব। তাঁর মন্তব্য, 'ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। তাই সেখানে এমন পোস্টার সত্যিই ভাবা যায় না। সাধারণ মানুষ দেখুক। তাঁরাই ভাবুক।' পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, 'কে পোস্টার মেরেছে, কেন মেরেছে, সেটা আমি বলতে পারব না। এই ধরনের পোস্টার সম্পর্কেও জানি না। যাঁরা সাঁটিয়েছেন তাঁরাই বলতে পারবেন। খোঁজ নিয়ে দেখব কী হয়েছে।'
এই পোস্টার খুলে ফেলা নিয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। শনিবার শিলিগুড়ি পুলিশের তরফে দুর্গাপুজো নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতারা। সেই বৈঠকে কোন রীতিতে দুর্গাপুজো হবে, তা নিয়ে নাকি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়।
শিলিগুড়ির শতাধিক পুজোমণ্ডপে 'দেবীমাহাত্ম্য' বা 'দুর্গা সপ্তসতী পাঠ' ও শক্তি রুপি দেবীর বিভিন্ন বর্ণনা ও রেওয়াজ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। উপস্থিত ক্লাব ও পুজো-আয়োজকদের অনেকেই এর তীব্র বিরোধিতা করেন বলে জানা গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে হিন্দুত্ববাদী এক নেতা বলেন, 'না, বৈঠকে কোনও রকম ফতোয়া দেওয়া হয়নি। অনুরোধ করা হয়েছে মাত্র।' ওই বৈঠকে হাজির পুলিশের এক কর্তার কথায়, 'বৈঠকেই অনেকেই নিজের মতামত রেখেছেন। তবে কেউ ফতোয়া জারি করেননি।'
