ক্লাসে না গিয়ে অফিসকক্ষে বসে মোবাইলে ভিডিও দেখার অভিযোগ উঠেছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তার স্বেচ্ছাচারিতা এবং নারী প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ক্লাসে না যাওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার একটি ভিডিও পাওয়া গেছে।
ভিডিওতে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তিনজন শিক্ষকের মধ্যে একজন ছুটিতে থাকায় বাকি দুই শিক্ষকের ওপর অতিরিক্ত পাঠদানের চাপ তৈরি হয়েছে বলে কথোপকথনে শোনা যায়। এ অবস্থায় নারী প্রধান শিক্ষক অফিসক্ষে বসে ভিডিও দেখা সহকারী শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পাঠদান করার আহ্বান জানান।
কথোপকথনে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘স্যার, এখন তো আমরা তিনজন শিক্ষক। এর মধ্যে একজন ছুটিতে আছেন। ফলে আমরা দুজন শিক্ষক মিলে ক্লাস নিচ্ছি। এখন তিনটি ক্লাস চলছে। একজন ম্যাডামকে দুটি ক্লাস নিতে হচ্ছে। আপনি তো বসে আছেন, আপনি একটি ক্লাসে যান।’
এ সময় সহকারী শিক্ষক ক্লাসে যাওয়ার বিষয়টি লিখিত চান। তিনি বলেন, ‘একটি কাগজে লিখে দেন, আমি কোন ক্লাসে যাব।’
তখন নারী প্রধান শিক্ষক নারী বলেন, ‘কাগজে লিখে দেওয়ার নিয়ম কোথায়? কাগজে লিখে দেওয়ার কোনো নিয়ম আছে?
অপর শিক্ষক বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি কোন ক্লাসে যাব, আপনি লিখে দিন।’
এ সময় প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘কাগজে লিখে দেওয়া কি কোনো নিয়মের মধ্যে পড়ে? আমরা তিনজন শিক্ষক, একজন ছুটিতে আছেন। আর এখন তিনটি ক্লাস চলছে। একজন ম্যাডামকে দুটি ক্লাস নিতে হচ্ছে। কারণ, আপনি এভাবে অফিসে বসে ভিডিও দেখছেন, কিন্তু ক্লাস নিচ্ছেন না। আমাদের স্কুলের পড়াশোনা নষ্ট হচ্ছে। ক্লাসের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে আমাদের ফলাফলও খারাপ হচ্ছে। এবারের পরীক্ষায় গণিত ভালো হয়নি, ইংরেজিও ভালো হয়নি। বাংলা মোটামুটি ভালো হয়েছে। গণিতের ফলাফলের জন্য আপনি দায়ী। গণিতের জন্য আপনি বেশি দায়ী। কারণ, আপনি নিজের ক্লাসও নেন না, আবার আমাদের ক্লাসের কার্যক্রমও ব্যাহত করেন। আপনি সব সময় এভাবে অফিসে বসে ভিডিও দেখেন। অফিসে ঢুকতে পারি না। আমি একজন নারী, আমার অফিসে ঢুকতেও সমস্যা হয়। আপনি সব সময় এভাবে বসে থাকেন।’
‘আর একটি ক্লাসে যেতে হলে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে লিখিত নির্দেশনা নিতে হবে? আপনি তো বলছেন, প্রধান শিক্ষকের লিখিত নির্দেশনা দিতে হবে। এটা কোন আইনে আছে? ঠিক আছে, আমি ভিডিওটি সংরক্ষণ করলাম। স্যারদের দেখাব।’
