আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগানে দুর্গাপুজো দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে হুগলির বৈদ্যবাটির বাসিন্দা শ্রীপর্ণা পোদ্দারের। রাজারহাটের একটি ক্যানসার হাসপাতালে কর্মরত শ্রীপর্ণা ছিলেন তিনি।
বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ষাটোর্ধ্ব দম্পতির একমাত্র মেয়েকে হারানোর বৈদ্যবাটির বাড়িতে গিয়ে শ্রীপর্ণার পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শোকাহত পরিবারের হাতে রাজ্য সরকারের তরফে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষিত ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণও শ্রীপর্ণার পরিবার পাবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তবে আর্থিক সাহায্যেই দায়িত্ব শেষ করতে চায় না রাজ্য সরকার। সন্তান হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়া দম্পতির ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, জেলাশাসকের উদ্যোগে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে শ্রীপর্ণার বাবা-মায়ের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, শ্রীপর্ণার মাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘এখন ঘটনা ঘটার পরে সকলে আসছি। পরে সকলেরই আসা বা খোঁজ নেওয়া থেমে যায়। ‘আউট অফ সাইট, আউট অফ মাইন্ড’ হলে যা হয়! সেই কারণে মৃতা শ্রীপর্ণার মাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটি চাকরি দেওয়া হবে। তিনি নিজেও নার্স ছিলেন। কাজের মধ্যে থাকলে মনটা অন্য দিকে থাকবে। তার বিনিময়ে তিনি অনারিয়াম পাবেন।’
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শ্রীপর্ণার বাবা ও মা দু’জনকেই বার্ধক্য ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ভবিষ্যতে বয়সজনিত কারণে দম্পতির যদি কোনও আশ্রয়ে থাকার প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রেও সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁরা যদি প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমারী বা রামকৃষ্ণ মিশনের কোনও আশ্রয়ে যেতে চান, তা হলে সেই ব্যবস্থা করার উদ্যোগ তিনি নিজে নেবেন। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে দম্পতির সম্মতির উপর।
শ্রীপর্ণার মৃত্যুর পরে তাঁর বাবা-মায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই বয়সে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দম্পতি কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ অন্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। কিন্তু যে মেয়ের উপর তাঁদের নির্ভরতা ছিল, সেই মেয়েই আর নেই।’
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=ditrWTfVcjAZ5PyT
এই পরিস্থিতিতে শ্রীপর্ণার বাবা-মা যাতে একাকিত্ব ও অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়েন, তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরবর্তী সময়েও তাঁদের খোঁজখবর রাখা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, অন্যরা সময়ের সঙ্গে ভুলে গেলেও তিনি নিজে তাঁদের পাশে থাকবেন।
