Published on
:
2 min read
নদিয়ার শান্তিপুরের বামাকালীর পুজো সর্বজনবিদিত। প্রতি বছর প্রচুর দর্শনার্থী ভিড় করেন মা কালীর নাচ দেখতে। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বেজুড়ে। এর মাঝেই নদিয়ার শান্তিপুরের বিখ্যাত বামাকালীর আদলে বর্ধমানে প্রথমবার বামাকালী পুজোর উদ্যোগ নিয়েছে ‘নতুনগঞ্জ ইয়ং ইউনিট’। তবে প্রস্তাবিত স্থানে পুজো করার অনুমতি না মেলায় জটিলতার সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ। বর্ধমান বামাকালী কমিটির পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়, আলমগঞ্জের কল্পতরু মাঠে ছটপুজো কমিটির আপত্তির কারণে তাদের এই বছরের পুজোর পরিকল্পনা বাতিল করতে হচ্ছে। এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির জন্য তারা জনসাধারণের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্টটি সামনে আসতেই জোর বিতর্ক শুরু হয়। উল্লেখ্য, প্রথম বছরের এই পুজো ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ৩১ ফুট উঁচু বামাকালী প্রতিমা, লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো এবং ১৪ নভেম্বরের ঐতিহ্যবাহী বামাকালীর নাচ সমেত শোভাযাত্রার প্রচার চালানো হচ্ছিল। তাই হঠাৎ পুজো বাতিলের ঘোষণায় সরব হন পুজোপ্রেমী ও স্থানীয় মানুষজন।
অবশেষে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় কাটল এই পুজোর জট। রবিবার রাত আটটা নাগাদ বর্ধমান থানায় প্রশাসন, বামাকালী কমিটি এবং ছটপুজো কমিটির উপস্থিতিতে একটি যৌথ বৈঠক হয়। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত স্থানীয় সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসে। ঠিক হয়েছে, আগামী ৮ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত বামাকালী পুজো অনুষ্ঠিত হবে। এর পর ১২ নভেম্বর থেকে যথারীতি ছটপুজোর নিয়মকানুন (লাউ ভাত, খরনা ও প্রথম ঘাট) পালিত হবে। উভয় পক্ষই একে অন্যের অনুষ্ঠান পালনে সম্মতি দেওয়ায় প্রশাসন দুই পুজো কমিটির আয়োজককেই অনুমতি দিয়েছে।
বামাকালী পুজো কমিটির সেক্রেটারি তন্ময় চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা সমস্ত নিয়ম মেনেই পুজো করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওখানকার ছটপুজো কমিটি আমাদের বার বার বাধা দিচ্ছিল। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই আমরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়ে দিই যে পুজোর পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র জানতে পারেন। তিনি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন। প্রশাসনকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কথা বলেন।’
ছটপুজো কমিটি সেক্রেটারি অজয় গুপ্তা বলেন, ‘আমরা এখানে এক দশক ধরে ছটপুজো করে আসছি। আমরা খুব নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করি। এলাকার লোকজন সেটা জানেন। কয়েক হাজার মানুষ এখানে বসে প্রসাদ গ্রহণ করেন। এখন বাইরে থাকা আসা কিছু লোক এখানে যে ধরনের পুজো ও মেলা করতে চাইছেন তাতে আমাদের পুজোর নিষ্ঠাচারে আঘাত লাগবে কারণ ওদের যে দিন অনুষ্ঠান শেষ হবে, তার পরের দিন ওই জায়গাটা পরিষ্কার করে আমাদের পুজো শুরু করা সম্ভব নয়। তাই ওই পুজো কমিটিকে আমরা অনুরোধ জানিয়েছি, পুজো হোক, বাকি অনুষ্ঠান না করার জন্য।’
ছট পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য পাপ্পু সিং বলেন, ‘দীর্ঘ ৮০ বছর ধরে আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে এই ছট পুজো করে আসছি। এখানে আমিষ নিরামিষের একটা বিষয় আছে। এখন লক্ষীপুর মাঠ বা ওই সমস্ত এলাকা থেকে আসা কিছু লোকজন এখানে পুজো করবে, মেলা করবে, খাবারের দোকান করবে। আমাদের সমস্যাটা সেখানেই হচ্ছে। পুজো হওয়াতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।’
সূত্রের খবর, থানায় বৈঠকের পরে বর্ধমান থানার আইসি জানিয়েছেন, তিনি সোমবার দুপুরে কল্পতরু মাঠ পরিদর্শন করতে আসবেন। তবে সূত্রের খবর, বামাকালীর পুজো করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের তরফে কোনও আপত্তি জানানো হয়নি। দু’পক্ষের মধ্যে একরকম বোঝাপড়া হয়ে গিয়েছে।
