আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর কলকাতার চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের গতি বাড়াল কলকাতা পুলিশ। এবার ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখাকে। মণ্ডপে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুর্ঘটনার আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। মণ্ডপে লাগানো মোট ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে ১৩টি থেকে ফুটেজ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। পাশাপাশি, দুর্ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজবের উৎসও খুঁজছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মণ্ডপে মাইকে কী ঘোষণা করা হয়েছিল, কারা সেই ঘোষণা করেছিলেন এবং তার সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনও যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মণ্ডপে উপস্থিত বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ভিতরের সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে দুর্ঘটনার সময়কাল মিলিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে ঘোষণার সময় এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের মধ্যে কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা স্পষ্ট হয়।
প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, হঠাৎ বৃষ্টির জেরে মণ্ডপের বাইরে বেরোনোর পথের সামনে বহু মানুষ জড়ো হয়ে পড়েছিলেন। ফলে বেরোনোর পথ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায়। ওই এলাকায় পুলিশকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হয়। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, জরুরি নির্গমনপথ, ভিআইপিদের বেরনোর পথ-সহ মোট তিনটি রাস্তা দিয়ে মানুষকে বাইরে বেরিয়ে যেতে। তবে এই ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান কুণাল আগরওয়াল। নিজস্ব চিত্র।
এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ফুটেজে মণ্ডপের কোনও অংশ ভেঙে পড়ার ছবি দেখা যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে সমস্ত ফুটেজ খতিয়ে না দেখা পর্যন্ত দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছেন না তদন্তকারীরা। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান কুণাল আগরওয়াল বলেন, “গোটা মণ্ডপে মোটা ৩০টি সিসি ক্যামেরা ছিল। তার মধ্যে ঘটনাস্থলের ফুটেজ উঠে এসেছে ১৩টিতে। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, বৃষ্টির কারণে প্রস্থানপথ ভিড়ে বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় ভুল ঘোষণা কে বা কারা করেছে, তা দেখা হচ্ছে। মণ্ডপ ভেঙে পড়ার কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি।”
চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও পুলিশের নজরে এসেছে। ২০২৫ সালে বারাসতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিয়োর সঙ্গে চোরবাগানের ঘটনাকে জুড়ে একটি ভিডিও তৈরি করে ছড়ানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে ওই ভিডিয়ো নিয়ে ক্ষমাও চাওয়া হয়। মৃতের সংখ্যা নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর হেল্পলাইনে যাঁরা ফোন করেছিলেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আরও একটি বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্তের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকজনের কথাবার্তা হয়েছিল বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে সেই কথোপকথনের সঙ্গে চোরবাগানের দুর্ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোচবিহারে যাচ্ছে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসটিএফ)।
