আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি সহ ভারত এবং ইজরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক নিয়েও ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথোপকথন হল ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।
ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য মোদিকে আমন্ত্রণ জানালেন নেতানিয়াহু। দেশের স্বাধীনতা দিবসে সাহসী ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে মশাল জ্বালানোর আহ্বান জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বড় বিমান দুর্ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন মচ্ছর। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতানিয়াহু জানান, তাঁর বন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা হয়েছে।
ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসে এক সাহসী ভারতীয় পাইলটের সঙ্গে মশাল জ্বালানোর জন্য মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। উত্তরে মোদি তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইজরায়েলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করা হয়েছিল। সেই দিনটিকেই দেশটির জাতীয় দিবস বা ‘ইয়োম হা’আৎসমাউত’ হিসেবে পালন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের ককপিটে পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর ওমানি সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, বিমানটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনার মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ওই সহ-পাইলট। সেই পরিস্থিতিতে বড়সড় বিপর্যয় এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন স্মিত।
এর পরেই ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলে ভারতীয় পাইলটকে ‘গোটা বিশ্বের নায়ক’ বলে প্রশংসা করেছিলেন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবারের কথোপকথনে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয় দুই দেশের শীর্ষনেতার মধ্যে।
নেতানিয়াহু জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের সংহতির কথা উল্লেখ করেছেন মোদি। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ কয়েক দশকের শক্তিশালী সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে আলোচনায়।
নেতানিয়াহুর সমাজমাধ্যমে পোস্টের কিছুক্ষণ পরেই এক্সে নিজের বক্তব্য জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি লেখেন, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে।
দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি অংশীদারিত্ব আরও মজবুত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা। মোদি আরও জানান, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও তাঁদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।
ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন তাঁরা। গাজা, ইরান-সহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে চলতে থাকা সংঘাতের আবহে এই ফোনালাপ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিম এশিয়ায় প্যালেস্তাইনি, ইরানি এবং ইয়েমেনের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে ইজরায়েল। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=3QkNYyh3xTaQ6cYQ
সেই সফরে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সময় মোদি বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তার স্বার্থও জড়িত।
গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকেও সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। এর আগেও আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আবহে দুই নেতার মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছিল।
