চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে তারেক হোসেন বাপ্পি (৩০) নামের এক তরুণ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী সেলিম উদ্দিনসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। নিহতের মা বাদী হয়ে গত ১৮ অক্টোবর সীতাকুণ্ড মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড়ে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তারেক হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় তিনি বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, একদল ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে তারেককে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পর বুকে গুলি করে। এসময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাপসির আলম শাওনও গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীরা তারেকের ইট-বালুর ব্যবসার নগদ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, একটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন ও একটি এফজেড মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা আহত দুজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তারেককে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত শাওনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেনসহ কয়েকজন এলাকায় মাদকব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তারেককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে মাদকবিরোধী প্রতিবাদের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি-না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, মাদকব্যবসার বিরোধ ছাড়াও বালু ও স্ক্র্যাপ ব্যবসা, আর্থিক লেনদেন কিংবা স্থানীয় আধিপত্যের দ্বন্দ্ব এর পেছনে রয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— আরিফ হোসেন (২৯), ফখরুল ইসলাম (৩২), আব্দুল মান্নান (২৮), সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী সেলিম উদ্দিন (৩৭), মো. ইমরান হোসেন (২৮), মো. আজিজ (৩২), আবদুল্লাহ আল নোমান (২৭), মো. সিফাত (২৪), মো. ইফতেখার (৩৫), মো. রবিন (২৬), সাখাওয়াত হোসেন ওরফে শওকত (৩৫), মো. জাফর (৪৫), আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫), আবদুল্লাহ আল মামুন (২৮), মো. আব্দুল মান্নান (৩৯), নাজমুল হোসেন (৪১) ও ফাহিম (২৬)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইদ্রিস আলী জানান, এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ, লুটের অভিযোগের সত্যতা এবং প্রতিটি আসামির সুনির্দিষ্ট সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বাদীর লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে গত ১৮ অক্টোবর সীতাকুণ্ড থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় ৩৮ নম্বর নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
