পরিবার নিয়ে একটু আনন্দভ্রমণে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। কে জানত, সেই আনন্দই চিরতরে কান্নায় রূপ নেবে! চোখের পলকে চোখের আড়াল হয়ে গেল প্রিয় স্ত্রী আর ফুটফুটে পাঁচ বছরের একমাত্র শিশুপুত্র। শুধু স্ত্রী-সন্তানই নয়, অগ্নিকাণ্ডের সেই লেলিহান শিখা কেড়ে নিয়েছে তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালকসহ পরিবারের মোট ছয়টি তাজা প্রাণ। একসঙ্গে সাজানো সংসার নিমিষেই ছাই হয়ে যাওয়ায় এখন শোকে পাথর হয়ে গেছেন চুয়াডাঙ্গায় বসবাসরত ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা নূর আলম।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারের ইনানী এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। যার মধ্যে একমাত্র নূর আলমের পরিবারেরই রয়েছে ছয়টি সদস্য।
নিহতরা হলেন—নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবীর এবং তাদের একমাত্র পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফায়িজান। নিহত বাকি চারজন হলেন—ফারিয়ার তিন বোন (শালিকা) এবং এক ভাই (শ্যালক)। নিহত ফারিয়ার পৈতৃক বাড়ি বরিশালে হলেও চাকরির সুবাদে গত আট বছর ধরে স্বামী নূর আলমের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর পরিবারের সবাইকে নিয়ে সাগরের হাওয়া গায়ে লাগাতে ও একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলেন তারা। ওঠেন ইনানীর সুদৃশ্য টুপটুপ রিসোর্টে। কিন্তু কে জানত, এই অবকাশ যাপনই তাদের জীবনের শেষ ভ্রমণ হয়ে থাকবে। শনিবার সকালে হুট করেই রিসোর্টটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে তাদের কক্ষটি। এতে ধোঁয়া ও আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় মা-ছেলেসহ পরিবারের ছয় সদস্যের।
এদিকে আকস্মিক এই ভয়াবহ মৃত্যুর সংবাদ যখন চুয়াডাঙ্গায় নূর আলমের কর্মস্থল ও পরিচিত মহলে পৌঁছায়, তখন চারদিকে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা ও শোকের মাতম। একসঙ্গে স্ত্রী, একমাত্র কলিজার টুকরো সন্তান ও শ্যালক-শ্যালিকাদের হারানোর খবর শোনার পর থেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নূর আলম। কোনো সান্ত্বনাই মানতে পারছেন না তিনি। স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ আনতে বর্তমানে তিনি শোকার্ত হৃদয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। চুয়াডাঙ্গার দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়ার ভাড়া বাসাসহ পুরো এলাকায় এখন চলছে মাতম। প্রতিবেশীরাও এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
