Published on
:
2 min read
শীর্ষেন্দু দেবনাথ
রেডে যাওয়া থেকে শুরু করে কোর্টে — কাজ বিস্তর। কিন্তু গাড়ি কই? হালফিলে ফুড সেফটি অফিসারদের একাধিক অভিযানে বহু রেস্তোঁরার খাবারে বাসি মাংস, নিষিদ্ধ রং ব্যবহারের মতো নানা বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। অথচ জেলা হোক বা কলকাতা, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট ভাবে গাড়ির সংস্থান নেই সরকারি নিয়মে। জরুরি কাজের ক্ষেত্রেও গাড়ি জোগাড় করতে হয়। কিন্তু কাজের যে ধরন, তার সঙ্গে এই ব্যবস্থা খাপ খায় না বলে দাবি অনেক অফিসারেরই। দ্বিতীয়ত, ২০২৬–এ দাঁড়িয়েও তাঁদের গাড়ি ভাড়া করতে হচ্ছে ২০০৮–এর রেটে! ফলে, ভাড়া দিয়েও গাড়ি পাওয়া কঠিন হচ্ছে।
যদিও রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরে এই পরিস্থিতিতে খানিকটা বদল এসেছে। গাড়ি চাইলে এখন বেশ কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া যাচ্ছে। তবে খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিকরা বলছেন, এটা নিতান্তই সাময়িক সমাধান। কারণ গাড়ি চেয়েই কাজে যেতে হচ্ছে। অর্থাৎ, গাড়ির জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী থাকার চিত্রে তেমন পরিবর্তন ঘটেনি। তবে আশার কথা, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই অফিসারদের কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের জন্য সব রকম চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
কলকাতার ক্ষেত্রে পুরসভা এবং জেলার ক্ষেত্রে সিএমওএইচ–দের তত্ত্বাবধানে কাজ করেন খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিকরা। একাধিক সিএমওএইচ–এর বক্তব্য, বিগত সরকারের আমলে গত ১০–১২ বছর ধরে এই সমস্যার কথা নানা মিটিংয়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু সুরাহা হয়নি।
জেলায় জেলায় কর্মরত ফুড সেফটি অফিসারদের দাবি, অর্ডার নম্বর-৩৫৬৪-WT/3M-81/98, তারিখ: ২৪.১১.২০০৮ অনুযায়ী এখনও গাড়ি ভাড়া করতে হয়। তাতে অনুমোদিত রেট হলো — নন-এসি গাড়ির ভাড়া প্রতি কিলোমিটার ১২-১৩ টাকা, আর এসি গাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার ১৫ থেকে ১৬ টাকা। বর্তমান বাজারের রেট থেকে যা অনেকটাই কম। ফলে ওই রেটে কেউ গাড়ি দিতে চান না। অথচ এই সব অফিসারের কাজে গাড়ি সবথেকে জরুরি। কলকাতা পুর–এলাকার অফিসারদের এই সমস্যা কম। কারণ তাঁরা পুরসভার তত্ত্বাবধানে কাজ করেন এবং এ জন্য ফান্ডও রয়েছে। শুধু তা–ই নয়, তাঁদের কাজের সীমানাও নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে। সমস্যাটা বেশি জেলার খাদ্যসুরক্ষা অফিসারদের ক্ষেত্রে।
এমনিতেই জেলায় জেলায় ফুড সেফটি অফিসারের সংখ্যা কম। পশ্চিম মেদিনীপুরে ৮, পূর্ব বর্ধমানে ৯, বাকি বড় জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ ১০ জন। কিন্তু এমন জেলাও রয়েছে যেখানে হয়তো ব্লক ২১টি, পুরসভা ছ'টি। কোথাও অফিসারই নেই, কোথাও এক জন ফুড সেফটি অফিসারকে একসঙ্গে একাধিক পুরসভা ও ব্লকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই লোকাভাবের ফলে জেলায় নিযুক্ত অফিসারদের ছুটতে হয় নানা জায়গায়। রেড করা, ডকুমেন্টেশন, পোর্টালে আপলোড, কেস ফাইল করা, হিয়ারিংয়ের জন্য কোর্টে যাওয়া — গাড়ির অভাবে এ সব কাজই থমকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। তবে রাজ্যে নতুন সরকার আসার পরে খাদ্যে ভেজাল ধরার কাজে গতি এসেছে। গুরুত্ব বুঝে এখন সিএমওএইচ–রা গাড়ির ব্যবস্থাও করছেন। ফলে ফুড সেফটি অফিসাররাও আশায় বুক বাঁধছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সিএমওএইচ সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গি বলেন, 'কিছু সমস্যা আছে, তা মিটিয়ে এই অভিযান লাগাতার চলবে।' নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার সিএমওএইচ অসিতকুমার দেওয়ানও বলেন, 'কিছু বাধা তো আছেই। তার সমাধান অবশ্যই হবে বলে আমার বিশ্বাস।' ফুড সেফটি কমিশনার সুমন ভট্টাচার্যর বক্তব্য, 'এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আমি অথরাইজ়ড নই।'