অলস দুপুরে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি। বাহির থেকে বোঝার উপায় নেই যে, এখানে কোনো ইতিহাসের হাতছানি আছে। পুরান ঢাকার বেগমবাজারে অবস্থিত ‘করতলব খান মসজিদ’। স্থানীয়রা অবশ্য চেনেন ‘বেগম বাজার মসজিদ’ নামে। কেউ কেউ বলেন ‘শাহী মসজিদ’।
এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাকাল ১৭০০ থেকে ১৭০৪ খ্রিষ্টাব্দে। বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদকুলি খানের উপাধি ছিল করতলব খান। অবশ্য মুর্শিদকুলি খানও মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দেওয়া উপাধি। ইতিহাসবিদদের মতে, তার মূল নাম মুহাম্মদ হাদি বা মির্জা হাদি।
করতলব খান মসজিদের স্থাপনায় দেখা মেলে আশ্চর্য শিল্পের সংমিশ্রণ। পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদের স্থাপনার সাথে মিল পাওয়া যায় আরেক মুঘল স্থাপনা সাত গম্বুজ মসজিদের। মধ্য-গম্বুজের আকৃতি খানিকটা বড়। এর দুই পাশেই রয়েছে দুটি করে গম্বুজ।
এই মসজিদের উত্তর পাশের দেওয়ালে আছে বাংলার দোচালার মতো একটি ছাউনি দেওয়া ঘর। এখানে এই মসজিদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। মুঘল স্থাপনার সাথে বাংলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই মসজিদে। এ ছাড়া এই মসজিদে ছিল একটি সিঁড়িযুক্ত কুয়া। যা উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশে দেখা মিললেও ঢাকার এই অংশে আর দ্বিতীয়টি ছিল না। অবশ্য রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে গেছে সেটি।
মসজিদের ভেতরে দেখা মিলবে মুঘল স্থাপনার স্পষ্ট ছাপ। পূর্বের মসজিদের অবয়ব ঠিক রেখে বর্ধিত করা হয়েছে বেশ অনেকখানি। মসজিদের ওপরে আছে একটি মাদরাসা। রোজ এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন মুসল্লিরা। পরম আনন্দে সেজদায় পড়ে থাকেন তারা।
দুপুরের তাড়া বাড়ছে। আর কালের সাক্ষী হয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে তিনশ বছরেরও পুরাতন এই ঐতিহাসিক ও নান্দনিক স্থাপনা। ইতিহাস বেঁচে থাকে এভাবেই। লেখক: শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
