শীতের সময় গরম পানির চাহিদা বাড়ে। তাই নিয়মিত ব্যবহারের আগে গিজার পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে গিজারের ভেতরে খনিজ পদার্থ জমা, বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি কিংবা পাইপে লিকেজের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব কারণে পানির তাপমাত্রা বাড়তে বেশি সময় লাগতে পারে, বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে এবং নিরাপত্তাঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-টিভি১৮-এর ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শীতের আগে গিজারের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আটটি বিষয় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ট্যাংক ও হিটিং এলিমেন্ট পরিষ্কার করা
পানিতে খনিজ পদার্থের পরিমাণ বেশি হলে গিজারের ট্যাংক ও হিটিং এলিমেন্টে আস্তরণ জমতে পারে। এতে পানি গরম হতে বেশি সময় লাগে এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে। পানি গরম করার সময় গিজার থেকে অস্বাভাবিক গড়গড় বা পটপট শব্দ হলেও ভেতরে পলি বা খনিজ পদার্থ জমেছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
পানির কঠোরতা ও ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট সময় পর গিজার সার্ভিসিং করানো উচিত।
অ্যানোড রড পরীক্ষা করা
স্টোরেজ গিজারের ভেতরে থাকা অ্যানোড রড ট্যাংককে মরিচা বা ক্ষয় থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। সময়ের সঙ্গে রডটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং প্রয়োজন হলে বদলাতে হয়। তাই সার্ভিসিংয়ের সময় দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে এটি পরীক্ষা করানো উচিত।
গরম পানিতে মরিচার রং দেখা গেলে কিংবা ট্যাংকে ক্ষয়ের লক্ষণ থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
সেফটি ভালভ ও থার্মোস্ট্যাট পরীক্ষা
গিজারের সেফটি ভালভ অতিরিক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, থার্মোস্ট্যাট পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। শীতের আগে নিয়মিত ব্যবহারের জন্য গিজার প্রস্তুত করার সময় এই দুটি অংশ ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
বৈদ্যুতিক সংযোগ ও আর্থিং পরীক্ষা
গিজারে পানি ও বিদ্যুৎ একসঙ্গে ব্যবহৃত হওয়ায় বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শীতের আগে ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে তার, প্লাগ, সকেট, আর্থিং এবং সুরক্ষাব্যবস্থা পরীক্ষা করানো উচিত।
তারের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, পোড়া দাগ কিংবা সংযোগ ঢিলা থাকার মতো লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বৈদ্যুতিক ত্রুটির সন্দেহ হলে পরীক্ষা না করা পর্যন্ত গিজার ব্যবহার বন্ধ রাখা নিরাপদ।
পানির পাইপ ও সংযোগ পরীক্ষা
গিজারের পানির প্রবেশ ও বের হওয়ার পাইপে লিকেজ, ফাটল কিংবা সংযোগের ক্ষতি হলে পানি অপচয় হতে পারে। পাশাপাশি গিজারের আশপাশের দেয়াল বা মেঝেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই পাইপ ও দৃশ্যমান সংযোগে পানি চুইয়ে পড়ছে কি না, মরিচা ধরেছে কি না কিংবা পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সমস্যা দেখা দিলে টেকনিশিয়ানের সহায়তা নিতে হবে।
অপ্রয়োজনে গিজার চালু না রাখা
প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় পানি গরম হয়ে গেলে গিজার বন্ধ করে দিলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ এড়ানো যায়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হওয়ার সুবিধা থাকা গিজারেও সঠিক ব্যবহারবিধি অনুসরণ করা জরুরি।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি গিজারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।
কখন টেকনিশিয়ানের সহায়তা নেবেন
গিজারে পানি গরম হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগা, গরম পানিতে মরিচার রং দেখা, অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া কিংবা পানি চুইয়ে পড়ার মতো লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। পাইপের ক্ষতি বা বৈদ্যুতিক সংযোগ অতিরিক্ত গরম হওয়ার লক্ষণ দেখা গেলেও দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে।
বিশেষ করে বৈদ্যুতিক ত্রুটির সন্দেহ হলে গিজার ব্যবহার বন্ধ করে দক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
কখন সার্ভিসিং করাবেন
শীত শুরুর আগেই গিজার সার্ভিসিং করানো ভালো। এতে শীতের সময় অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ার আগেই সম্ভাব্য ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামত করা যায়।
গিজারের মডেল, পানির গুণমান, ব্যবহারের মাত্রা এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে সার্ভিসিংয়ের সময় নির্ধারণ করা উচিত। যেসব এলাকায় পানিতে খনিজ পদার্থ বেশি, সেখানে গিজারের ভেতরে আস্তরণ জমার ঝুঁকি থাকায় তুলনামূলক ঘন ঘন পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।