প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহী সফরে আসছেন। সফরকালে তিনি ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। এর আগে তিনি ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং হিন্দুদের সঙ্গে দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষ উচ্ছ্বাসিত। তারা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে রাজশাহীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে।
শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী আসছেন এতে আমরা খুব খুশি। শিক্ষানগরী বা রাজশাহীতে শিক্ষার পরিবেশটা অনেক উন্নত। শিক্ষার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী যেন আরো বেশি সুদৃষ্টি দেন। শিক্ষার পরিবেশ মান এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করেন এটাই আমার প্রত্যাশা।”
বেসরকারি চাকরিজীবি জুবায়ের আহমেদ বলেন, “আমাদের দেশের বেকার সংখ্যা অনেক। রাজশাহীতে বেকার সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিবেদন, বেকারত্বটা কিভাবে দূর করা যায় তিনি যেন একটু বিবেচনা করে দেখেন। সরকারি চাকরিজীবীরা পে-স্কেল পাচ্ছেন। আমাদের জন্য এরকম একটি বেতন কাঠামো যেন ঘোষণা করা হয় তার যেন তিনি ব্যবস্থা করেন।”
আসমাউল হুসনা নামের এক গৃহবধূ বলেন, “রাজশাহীকে শিক্ষানগরী বলা হয়। বর্তমানে রাজশাহীর সবকিছু সুন্দর। কিন্তু কর্মসংস্থান নাই। এখানে বেকার যুবকরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ অনেক শিক্ষিত হয়ে বাদাম বিক্রি করছে, কেউ হয়তো দেখা যায় নিরাপত্তা প্রহরীর চাকরি নিচ্ছে। এটা খুবই খারাপ। এখানে যদি কোন ভালো মানে চাকরির সুযোগ থাকতো বা বড় বড় কারখানা থাকতো তাইলে অবশ্যই মানুষ চাকরির সুযোগটা পেত।”
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, “রাজশাহীতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই আছে। এখন এখানে সরকারিভাবে কোন হোস্টেল চালু করা হয় তাহলে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হবে। মেসের চেয়ে হোস্টেলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকবে বেশি। তাহলে খরচও অনেক কমে আসবে।”
আব্দুল আলিম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, “রাজশাহী উন্নয়নের জন্য কর্মসংস্থান জরুরি। মানুষ যেন কর্ম করে খেতে পারে। মেয়েরাও নিজ এলাকায় থেকে কর্মসংস্থান চায়। রাজশাহীর নাগরিক হিসেবে বলতে চাই, আমাদের এই বিভাগকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের শিল্প কারখানার প্রয়োজন। কর্মসংস্থান হলে রাজশাহী বিভাগ এগিয়ে যাবে।”
রাসিক প্রশাসক ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রাজশাহীতে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মহানগরবাসীর মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।”
রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চারঘাট-বাঘা আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, “রাজশাহীকে নিয়ে আগে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কলকারখানাগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই কলকারখানাগুলোকে আবারো চালুর চেষ্টা চলছে। কিছু কলকারখানা প্রাইভেটে দেওয়া হয়েছে। এতে সচল হচ্ছে রাজশাহীর অর্থনীতি। আগামী এক বছরের মধ্যে সব কলকারখানাগুলো পুরোদমে চালু করা হবে।”
তিনি আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের দাবি থাকবে যে, রাজশাহী একটা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যেন করা হয়। রাজশাহী ও আশেপাশের জেলাগুলোতে সবাই কৃষকের সন্তান। আগামী দিনে আমাদের চাষাবাদ করে জীবন চালাতে হবে। এই অঞ্চলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হলে আমাদের লাভ হবে। এই মাঠে প্রধানমন্ত্রী আখচাষিদের প্রণোদনা দেবেন।”
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাতে আগামী ২০ অক্টোবর রাজশাহীতে আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুপুর দেড়টায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে বেলা ৩টায় নগরের ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এ জনসভা হবে। জনসভা ঘিরে মাদরাসা মাঠ প্রস্তুত, মঞ্চ নির্মাণ, পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও মাঠসংলগ্ন সড়ক সংস্কারসহ নানা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
