হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা টেলিগ্রামের মতো মেসেজিং পরিষেবাগুলির জনপ্রিয়তা ব্যাপক। এগুলি ছাড়া আজকের দিনে চলাই মুশকিল। কিন্তু জানেন কি, অনেক ফোনেই হয়তো ২০২৭ সাল থেকে হয়তো আর এই অ্যাপগুলি কার্যকর থাকবে না! নেপথ্যে কেন্দ্রের নতুন ‘সিম-বাইন্ডিং’ নিয়ম। কিন্তু কী এই নয়া নিয়ম? আসুন জেনে নেওয়া যাক।
টেলিযোগাযোগ বিভাগের তরফে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট অ্যাপ-ভিত্তিক যোগাযোগ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাদের অ্যাকাউন্টগুলি যেন ‘কেওয়াইসি’ অর্থাৎ যাচাই করা সিম কার্ডের সঙ্গেই যুক্ত থাকে। ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চালু হবে নতুন নিয়ম। যে অ্যাকাউন্টগুলির সিম কার্ডের ‘কেওয়াইসি’ থাকবে না, সেগুলি আর ব্যবহার করা যাবে না।
এই নিয়মের উদ্দেশ্য হল মোবাইল নম্বর এবং তার সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টের মধ্যের সংযোগকে আরও সুদৃঢ় করা, যাতে প্রতারণার উদ্দেশ্যে মেসেজিং পরিষেবার অপব্যবহার কঠিন হয়ে পড়ে। নয়া নিয়ম অনুসারে, ‘কেওয়াইসি’ নেই এমন সিম কার্ড ব্যবহার না করে কেবল ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে যাঁরা টেলিগ্রাম কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাঁরা বড় ফ্যাসাদে পড়তে চলেছেন। আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড ইউজার, সমস্যা হবে সব ধরনের ইউজারেরই। ইতিমধ্যেই অ্যাপল আইওএসে পরিবর্তন এনেছে। সেপ্টেম্বরে একটি সফটওয়্যার আপডেট আনা হয়েছে, যা কোনও আইফোনে সিম কার্ড না থাকলে তা শনাক্ত করতে পারে।
গত বছরের ২৮ নভেম্বর এই সংক্রান্ত প্রথম নির্দেশিকা জারি করেছে DoT। প্রাথমিক শর্তাবলির মধ্যে ছিল প্রতি ছয় ঘণ্টা অন্তর ইউজারদের ওয়েব সেশন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ-আউট করে দেওয়া। পরে অবশ্য সেই নিয়ম প্রত্যাহার করা হয়। তবে জালিয়াতির সন্দেহ তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রামের আর কোনও অ্যাপের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে কি? সিগন্যাল এখনও কেন্দ্রের নির্দেশের প্রতিক্রিয়া দেয়নি। অন্যদিকে স্ন্যাপচ্যাটের সিম-বাইন্ডিং নিয়ম মানার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানা গিয়েছে। আরেকটা বিষয়, একেবারে ১ জানুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট কিছু ফোন মডেলে হোয়াটসঅ্যাপ কাজ করা বন্ধ করে দেবে— এমনটা হয়তো হবে না। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ব্যবহৃত ডিভাইসে ‘রেজিস্টার্ড’ সিমটি লাগানো আছে কিনা এবং প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী অ্যাপটি সেই সিমকে যাচাই করতে পারছে কি না।
