হৃদ্রোগ কি কেবল খাওয়াদাওয়ার অনিয়মেই হয়? হার্টের অসুখ মানেই ভেবে নেওয়া হয় কায়িক শ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ধূমপান বা উচ্চ রক্তচাপ। কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ, যিনি নিয়ম মেনে খান, ব্যায়ামও করেন, জীবনযাত্রায় সংযম মেনে চলেন, তাঁরও কিন্তু হার্টের রোগ হয়। এমন অনেক অভিনেতা বা খেলোয়াড়ের হৃদ্রোগ হয়েছে যাঁরা নিয়মের বেড়াজালেই থাকেন। তা হলে হার্টের অসুখ হওয়ার কারণ কী?
বংশগত বা জিনগত কারণও রয়েছে হার্টের অসুখের নেপথ্যে। চিকিৎসকেরা বলছেন, বাবা-মায়ের কাছ থেকে জিনের মাধ্যমে পাওয়া কিছু বৈশিষ্ট্য কোলেস্টেরলের মাত্রা, হৃৎস্পন্দনের গোলমাল বাঁধাতে পারে। তা ছাড়া বংশগত কারণে জন্ম থেকে হার্টের গঠনের ত্রুটি, হৃৎস্পন্দনে অস্বাভাবিকতাও আসতে পারে, যা জানা যায় না আগে থেকে। হার্টের রোগ হওয়ার নেপথ্যে এমন কিছু কারণ আছে যা সাধারণত বংশগত বা জিনগত ভাবে আসে।
পারিবারিক হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া
সবসময় অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার বা ব্যায়ামের অভাবেই যে কোলেস্টেরল বাড়ে, এমন নয়। পরিবারে হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া বা রক্তে খারাপ কোলেস্টরল বৃদ্ধির ইতিহাস থাকলে, তা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও আসতে পারে। রোগ চিহ্নিত না হলে বা সঠিক চিকিৎসা না হলে অল্পবয়সেও হৃদ্রোগ হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, বমি ভাব, কিংবা যখন তখন শরীর অসাড় হয়ে যাওয়া, পায়ে মাঝেমধ্যেই কালশিটে পড়ার লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে।
হৃৎপিণ্ডের পেশির সমস্যা
জিনগত পরিবর্তন বা মিউটেশনের কারণে হৃৎপিণ্ডের পেশির গঠনে বা হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় বদল আসতে পারে। এর ফলে ‘কার্ডিয়োমায়োপ্যাথি’ নামে জটিল রোগ দেখা দিতে পারে যা হার্টের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। পরিবারে যদি এমন রোগের পূর্ব ইতিহাস থাকে বা সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঘটনা আগে ঘটে, তা হলে অনেক সময় একই পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের শরীরে একই জিনগত ত্রুটি দেখা দেয় যা হৃদ্রোগের কারণ হয়ে ওঠে।
অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অ্যারিদ্মিয়া
সাধারণত একজন মানুষের হৃৎস্পন্দন বা হার্টবিট মিনিটে ৬০ থেকে ১০০-এর মধ্যে থাকে এবং হৃৎস্পন্দনের একটা নির্দিষ্ট ছন্দ থাকে। কিন্তু হার্টের সঙ্কোচন-প্রসারণের সময় ও ছন্দের হেরফের হলে তখন তাকে বলে কার্ডিয়াক অ্যারিদ্মিয়া। অনেক সময়েই এই রোগের কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে বুক ধড়ফড়, মাথা ঝিমঝিম করা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। যদিও সব অনিয়মিত স্পন্দন জিনগত কারণে হয় না, তবুও এর সঠিক চিকিৎসা সময়মতো হওয়া প্রয়োজন।
হার্টের জন্মগত ত্রুটি
জন্মগত ভাবে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা অর্থাৎ কনজেনিটাল হার্ট ডিজ়িজ় হলে হৃদ্যন্ত্রটি আকারে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছোট বা বড় হতে পারে। পরিশোধিত রক্ত সঞ্চালন ঠিকঠাক ভাবে না হওয়া বা হৃদ্যন্ত্রে ছিদ্র থাকার মতো সমস্যা হতে পারে। তা ছাড়া ছোটদের হৃদ্যন্ত্রে টিউমর হওয়ার মতো জটিল সমস্যাও হতে পারে। বংশগত ভাবে এই সমস্যা গর্ভস্থ ভ্রূণেই দেখা দিতে পারে।
বংশগত রোগ
পরিবারে জিনগত রোগ থাকলে অথবা অটোইমিউন রোগ হওয়ার ইতিহাস থাকলে, গর্ভস্থ ভ্রূণ দুর্বল হৃদ্যন্ত্র নিয়ে জন্মাতে পারে। সে ক্ষেত্রে সন্তান নেওয়ার আগে মায়ের কিছু শারীরিক পরীক্ষা ও জিন টেস্ট করিয়ে নেওয়া জরুরি।
