মুজাহিদ হোসেন, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছীতে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করা একটি পরিত্যক্ত ভবনের মালামাল অপসারণের পরও ৩০ হাজার টাকা বকেয়া রাখার অভিযোগ উঠেছে কোলা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল হোসেনের বিরুদ্ধে। নিলামে ভবনটির মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ১ লাখ টাকা পরিশোধ করে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হলেও বাকি টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি পরিশোধে তালবাহানা করতেছে। তবে জামিল হোসেনের দাবি, তিনি সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গয়ড়া তেঁতুলীয়া ডি এম ফাজিল (ডিগ্রি) কলেজ ও মাদ্রাসার একটি পরিত্যক্ত ভবন গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে গঠিত ১১ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নিলামে জয়পুরহাটের এক ব্যবসায়ী ভবনটির জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দর প্রস্তাব করেন। পরে কোলা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল হোসেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দর হাঁকালে তাঁর কাছে ভবনটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নিলামের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের পর মালামাল অপসারণের কথা থাকলেও জামিল হোসেন ১ লাখ টাকা পরিশোধ করে ভবনের মালামাল সরিয়ে নেন। বাকি ৩০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
নিলাম কমিটির তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি জানান, বকেয়া টাকা চাইতে গিয়ে তাঁরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বকেয়া অর্থ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জামিল হোসেন বলেন, আমি ১ লাখ টাকা জমা দিয়ে ভবনের মালামাল নিয়ে এসেছি। বাকি ৩০ হাজার টাকা অধ্যক্ষের লোকজনকে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে ওই টাকা পরিশোধের কোনো রসিদ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, টাকা দেওয়ার সময় কোনো রসিদ নেননি। একই সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান বলেন, প্রকাশ্য নিলামে জয়পুরহাটের একজন ব্যবসায়ী ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দর দিয়েছিলেন। পরে জামিল হোসেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দর হাঁকালে তাঁর কাছে ভবনটি বিক্রি করা হয়। তিনি ১ লাখ টাকা দিয়ে মালামাল নিয়ে গেছেন। বাকি ৩০ হাজার টাকা চাইলে তিনি তালবাহানা করতেছেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিলাম কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, পরিত্যক্ত ভবনের নিলামের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। তবে নিলামের টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়নি—এমন কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান সনির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, নিলামের শর্ত, সরকারি কোষাগারে অর্থ জমার রসিদ, প্রতিষ্ঠানের হিসাবপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির নথি যাচাই করে প্রকৃতপক্ষে কোনো টাকা বকেয়া রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বকেয়া অর্থ আদায়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ জাতীয় আরো খবর..
