আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১০১-এ জট কাটিয়ে প্রত্যয় নিয়েই ফিরেছিল টালা। ২০২৪ সালের পর, স্বল্প সময়ে, স্বল্প পরিসরে, শিল্পী সুশান্ত পাল ফিরেছেন তাঁর ভাবনা, ‘ডিটাচমেন্ট, বিয়োজন’ নিয়ে। কিন্তু সেই টালা প্রত্যয় নিয়েই পুজোর মুখে ফের বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, সাধারণের জন্য টালার দরজা খুলে দেওয়ার আগে, ওই প্যান্ডেলে ঢুকতে গেলে গুণতে হয়েছে টাকা। এমনিতে ক্রয় মূল্য ২০০। জিএসটি দিয়ে আরও খানিক বেশি। মাস আর্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই বিপুল বিতর্ক। তার মাঝেই ফের টাকা দিয়ে টিকিট বিক্রির অভিযোগ?
টালা প্রত্যয়ের পুজো কমিটি এই অভিযোগের মুখে দাঁড়িয়ে কী বলছে? এই পুজোর নতুন কমিটির কোষাধ্যক্ষ শুভঙ্কর সাহা বলছেন একেবারে উল্টো কথা। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, ক্যাসেট নস্টালজিয়া উসকে আদতে পুজোর গান বিক্রি করতে চেয়েছিল পুজো কমিটি। কী হবে উপার্জিত টাকা দিয়ে? তাও খোলসা করেছেন তিনি।
শুভঙ্কর বলছেন, 'টাকা দিয়ে পুজো দেখতে হবে, অমরা এই কনসেপ্টে বিশ্বাসীই নই। ২০২৬ সালে, আমরা একটি অ্যাপে অ্যাড দিই, Immerse into the music feel the puja নামের ইভেন্টের। দেখুন আগে পুজোর সিডি , ক্যাসেট হতো। সেরকম পুজোর গান আছে এখানে। শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল এবং শীর্ষক পাল, যে থিম সং বানিয়েছেন, গত কয়েকবছরে মানুষের চাহিদা দেখেই অমরা বিক্রি করার পরিকল্পনা নিই। তাতে লাগত ২০০টাকা। বিষয় ছিল, আপনি যদি ওই মিউজিক কেনেন, পুজো কর্তৃপক্ষ দুটো পাস দিচ্ছিল কমপ্লিমেন্টারি। কিছু অসৎ মানুষ কলুষিত করতে চাইছেন বিষয়টা।'
কিন্তু যাঁরা এই কমপ্লিমেন্টারি পাস পাচ্ছেন, তাঁদের লাভ কী? কোন বাড়তি সুবিধা? শুভঙ্কর বলছেন, '১১ তারিখ থেকে এই ইভেন্ট শুরু হয় ওই নির্দিষ্ট অ্যাপে। তাঁদের ভিভিআইপি ট্রিটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। পুজোর প্যান্ডেলে বেশকিছু স্তর রয়েছে। আমরা তাঁদের প্রতিমার আরও কিছুটা কাছে পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছি।' তবে একইসঙ্গে পুজো কর্তৃপক্ষের দাবি ১১ তারিখ থেকে এই মিউজিক বিক্রির পরিকল্পনা থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুজোর উদ্বোধন করার কিছু পরেই, সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় টালা প্রত্যয়ের প্যান্ডেলের দরজা।
কিন্তু এই যে পুজোর গান বিক্রির ভাবনা, তা থেকে অর্জিত টাকা দিয়ে কী করবে টালা? পরিকল্পনা কী? কোষাধ্যক্ষ বলছেন, 'যিনি মিউজিক তৈরি করেছেন, তাঁর শেয়ারিং আছে, শেয়ারিং রয়েছে পুজো কমিটির। আমরা খুব দ্রুত এনজিও'র মাধ্যমে মানুষের জন্য কাজ শুরু করতে চলেছি। সেই কারণেই এই টাকা তোলার পরিকল্পনা।'
