পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে গত ২০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। আরেকজনের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে
আলোচিত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। আজ বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।
অপ্রতীম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে তাকে হত্যা করা হয়, পরদিন মরদেহ পাওয়া যায়।
আনিসুজ্জামান বলেন, দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে গত ২০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। আরেকজনের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ড. নাহিদা বেগম বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা খুনিদের দ্রুত বিচার দেখতে চাই। আশা করব, আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। এখন আমাদের একটাই চাওয়া, খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি।
মামলাটির তদন্ত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ।
অভিযোগপত্রে পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামী সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং তুহিনের বন্ধু মো. সিয়াম (১৯)। তাদের মধ্যে দুজন কিশোর হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, ফাহাদ ও কামরুলকে অভিযোগপত্রে শিশু বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত তুহিন। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় তিনজন, সিয়াম সহযোগিতা করেন। এরই মধ্যে তুহিন ও দুই কিশোর আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
তবে অভিযোগপত্রের বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে অপ্রতীমের পরিবার। বিশেষ করে দুই কিশোরের বয়স নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তাদের। শুরু থেকেই প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত বয়স নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছিল। অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাওয়ার পর এ বিষয়ে আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে অপ্রতীমের পরিবার।
আজ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া সেল) মো. লুৎফর রহমান বলেন, সময়সীমার মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শেষ করে ৩১ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে অপ্রতীমকে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন পাহাড়ি বনে যায় তুহিন। সেখানে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় সে। এ নিয়ে দুজনের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অপ্রতীমের মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে তুহিন। পরে ফাহাদ-কামরুলও তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে অপ্রতীমের মৃত্যু হয়।
অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
