ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ক্রিকেট ও ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারিতে রূপ নেয়। রাতেও দুই পক্ষ আবার সংঘর্ষে জড়ায়। এতে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল মাঠে ন্যাশনাল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) খেলা চলাকালে মাঠের এক পাশে একদল শিক্ষার্থী ক্রিকেট ও অন্য দল ফুটবল খেলছিলেন। একপর্যায়ে ফুটবল ক্রিকেটের জায়গায় চলে গেলে তা আনতে গিয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাতের সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় তিনি গালাগাল করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল ও শুভ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তর্কাতর্কি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে ২০তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী পেছন থেকে শুভর মাথায় থাপ্পড় মারেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের ধস্তাধস্তি ও মারামারিতে কয়েকজন আহত হন।
পরে এক পক্ষের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে ইংরেজি সাহিত্য, লোকপ্রশাসন ও চারুকলাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। দিনের সংঘর্ষের পর রাতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষ আবার সংঘর্ষে জড়ায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তবে প্রক্টরের উপস্থিতিতেও মারধর ও গালাগালের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও বাধা দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রক্টোরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আহতদের প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাফি ও চারুকলা বিভাগের রোমান আশঙ্কামুক্ত আছেন। অন্যদিকে দিদার নামের এক শিক্ষার্থী আহত সেজে হাসপাতালে ব্যান্ডেজ করিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিপক্ষের শিক্ষার্থীরা। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর হাসপাতালে আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এমদাদুল হুদা, প্রক্টরসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন, দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।