
এইচ এম রুহুল কাদের, চকরিয়া: | শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩৩
ছবি সংগৃহীত।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১৬ লাখ টাকা মূল্যের ৩০০ বস্তা চিনিসহ কাভার্ডভ্যান গায়েবের ঘটনায় চকরিয়া থেকে আরও সাড়ে ৭ টন চিনির চালান উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের নোনাছড়ি এলাকার হারবাং ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেলের একটি বন্ধ দর্জির (টেইলার্স) দোকান থেকে এসব চিনি উদ্ধার করা হয়।
পটিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এখন পর্যন্ত লুণ্ঠিত ৩০০ বস্তার মধ্যে ২৮৪ বস্তা (১৪.২ টন) চিনি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাভার্ডভ্যান চালক মো. আলমগীর পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে ১৫ টন চিনি আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে চকরিয়া ও আজিজনগর এলাকার অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে এসব চিনি বিক্রি করে দেওয়া হয়।
এই সিন্ডিকেটের অন্যতম মূলহোতা আজিজনগর বাজারের ‘রাজিব স্টোর’-এর মালিক মো. রাহাত উদ্দিন জুয়েল এবং চকরিয়ার নোনাছড়ির বন্ধ দোকানের মালিক রাসেল—যাঁরা সম্পর্কে দুই ভাই। রাসেল উদ্দিন হারবাং ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
বান্দরবানের আজিজনগর বাজারে জুয়েলের গোডাউন থেকে প্রথম দফায় ১৩৪ বস্তা চিনি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকরিয়ার নোনাছড়িতে জুয়েলের ভাই রাসেলের বন্ধ টেইলার্সের দোকান থেকে আরও ১৫০ বস্তা চিনি উদ্ধার করে পুলিশ।
হারবাং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল আহমদ জানান, উদ্ধার অভিযানের খবর পেয়ে অসাধু ব্যবসায়ী জুয়েল ও রাসেল পরিবারসহ বাড়িঘর তালাবদ্ধ করে গা-ঢাকা দিয়েছেন।
গায়েব হওয়ার নাটক ভেস্তে যাওয়ার পর লুণ্ঠিত চিনির মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে পটিয়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় কাভার্ডভ্যান চালক আলমগীর ও মুদি দোকানি রাহাত উদ্দিন জুয়েলকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়।
বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, চালক আলমগীর বিশ্বাস ভঙ্গ করে অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে ১৬ লাখ টাকার চিনি আত্মসাৎ করেছেন।
পটিয়া থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, চালক আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান ও সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা ক্রসিং সংলগ্ন চট্টগ্রাম-আনোয়ারা সড়কের নবনির্মিত কর্ণফুলী উপজেলা ভবনের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় চিনিবিহীন কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং লুণ্ঠিত বাকি চিনির সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
উপজেলা পর্যায়ের তাইকোয়ান্ডো প্রতিযোগিতা আগামী ৩০ ও ৩১ অক্টোবর

ইমাম খাইর, কক্সবাজার: | শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:০৭

ছবি সংগৃহীত।
বাংলাদেশ তাইকোয়ান্ডো এসোসিয়েশনের উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা আগামী ৩০ এবং ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপজেলাসমূহ থেকে খেলোয়াড়বৃন্দ অংশগ্রহণ করবে। উপজেলা থেকে বাছাইকৃত খেলোয়াড়রা জেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
এই প্রতিযোগিতা উপলক্ষে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে জেলার কোচ ও রেফারীদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কক্সবাজার তাইকোয়ান্ডো এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক ককসু জিএস ছৈয়দ করিম ও জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোকতার আহমদ বক্তব্য রাখেন।
কোচদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার সদরের নুরুল ইসলাম, উখিয়া পালংখালীর ফরিদুল আলম চৌধুরী, চকরিয়ার মো. শামসুল হুদা, কক্সবাজার সদরের মো. জামাল হোসাইন, চকরিয়ার হামিদুর রহমান, উখিয়ার দেলোয়ার হোসাইন, ঢাকার কাজল রানা এবং চকরিয়া উপজেলার মো. আবু তালেব।
সভাপতির বক্তব্যে শেখ আবদুল্লাহ বলেন, নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে সরকার দেশের ক্রীড়াঙ্গণকে সমৃদ্ধ করার লক্ষে কাজ করছে। তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় তৈরি করতে বাজেট দিচ্ছে।
তিনি বলেন, যুব সমাজকে মাদকসহ যাবতীয় অপরাধকর্ম থেকে দূরে রাখতে প্রতিটি এলাকায় খেলোয়াড় মনস্ক মানুষ সৃষ্টি করার লক্ষে সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, তাইকোয়ান্ডোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বাধ্যতামূলক করছে সরকার। ইতোমধ্যে সেই লক্ষে কাজ শুরু হয়েছে। যার পারফরম্যান্স যত তার মূল্য ততো হবে। মতাদর্শ বিবেচনা নয়, আন্তরিক ভূমিকা বিবেচনায় খেলোয়ার খেলোয়ারবৃন্দ মূল্যায়িত হবে।
এ সময় উপজেলাভিত্তিক ক্লাবগুলোকে ঢেলে সাজানোর অনুরোধ জানান শেখ আবদুল্লাহ।
চকরিয়ায় বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩০

ছবি সংগৃহীত।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় শ্যামলী এনআর পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস ও সবজিবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহত দুজনই পিকআপের আরোহী।
বৃহস্পতিাবর দিনগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া সবুজ পাহাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, টেকনাফ উপজেলার ফুলের ডেইল দক্ষিণ হ্নীলা এলাকার আবুল কালামের ছেলে আব্দুল্লাহ (২৭) এবং চকরিয়া উপজেলার(মাতামুহুরি) রামপুর এলাকার মো. দুলালের ছেলে মো. ইয়াছিন (২৫)।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া থেকে কক্সবাজারগামী সবজিবাহী পিকআপটি (চট্ট মেট্রো-ন-১১-৮৪৫১) নয়াপাড়া সবুজ পাহাড় এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রামগামী শ্যামলী এনআর পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২০৭৭) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মালুমঘাট হাইওয়ে থানার এসআই মো. সেলিম মিয়া সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ মো: সেলিম মিয়া জানায়, নিহতদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা ও সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন

ইমাম খাইর, কক্সবাজার: | বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:১৩

ছবি সংগৃহীত।
কক্সবাজার-০৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব লুৎফুর রহমান কাজল বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বাংলাদেশ। বিশেষত কক্সবাজার, বহুমুখী সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এ সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা ও সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে ব্যবসা করছে। সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে। তাই তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমপি কাজল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত ‘উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের পূর্ণ-নাগরিক মর্যাদায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় মডেল মসজিদস্থ ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও নাগরিক অধিকার হরণের অবসান ঘটিয়ে পূর্ণ নাগরিক মর্যাদায় তাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও দীর্ঘস্থায়ী এ সংকট কক্সবাজারসহ দেশের ওপর বহুমুখী চাপ সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং ভবিষ্যতে পুনরায় বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি এড়াতে মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা মুহাম্মদ মুসলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সংগঠনটির সদস্য সচিব মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন হাবিব।
জেলা সদস্য হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুরের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক,, জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরের মুহাদ্দিস মাওলানা ড. হারুন আজিজী নদভী। বিশেষ আলোচক ছিলেন, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম আহবায়ক মাওলানা হাফেজ ছালামতুল্লাহ, রামু জোয়ারিয়ানালা এমদাদুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা হাফেজ আব্দুল হক, কক্সবাজার হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রহমত ছালাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ জেলা সভাপতি মাওলানা আফসার উদ্দিন চৌধুরী, হাশেমিয়া মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা এনামুল হক, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আখতারুল আলম, জেলা নেজামে ইসলাম পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল হক চকোরী, এড. মোহাম্মদ নিজামুল হক, জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি বেলাল তৌহিদ, ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ অলি উল্লাহ আরজু প্রমুখ।
বক্তারা রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাবে কক্সবাজারের পরিবেশ, বনভূমি, স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, জনস্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় মাদক পাচার, অপহরণ, মানবপাচার, সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলার সাবেক সভাপতি মাওলানা আমিরুল ইসলাম, জেলা খেলাফত মজলিস সভাপতি মাওলানা আবু মুসা, নেজামে ইসলাম নেতা মাওলানা খালেদ সাইফী, লেখক হাফেজ সাইফুল ইসলামসহ প্রতিনিধিত্বশীল আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
