বজ্রপাত থেকে কৃষকদের রক্ষায় দেশের হাওড় ও উত্তরাঞ্চলসহ বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্রনিরোধক আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে বজ্রপাতের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার জন্য সাইরেনের ব্যবস্থা থাকবে। বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলে কৃষকরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারবেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যেরবাজার হরিসভা সংস্কৃতি দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হরিজন, রবিদাস ও বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দুর্যোগে প্রাণহানির অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বজ্রপাত। বিশেষ করে হাওড় ও উত্তরাঞ্চলে এর ভয়াবহতা বেশি। মাঠে কাজ করার সময় কৃষকরা অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারেন না। ফলে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে।
তিনি বলেন, বন্যার সময় মানুষ যেমন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়, তেমনি বজ্রপাতের সময়ও কৃষকরা যাতে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে। বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্রনিরোধক আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। সেখানে সাইরেনের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দিলে কৃষকরা আগেভাগেই সতর্ক হয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পারেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বজ্রপাতের প্রায় আধা ঘণ্টা আগে সতর্কবার্তা পাওয়ার উপযোগী ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সময়মতো নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শাড়ি বিতরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে হতদরিদ্র মানুষের জন্য ৩০০টি করে শাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পূজার আগেই এসব শাড়ি বিতরণের কথা ছিল। তবে কুড়িগ্রামে বরাদ্দের শাড়ি বিতরণ না হওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি মন্দিরের পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। এছাড়া দেশে দুর্গাপূজার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে এবং পূজার ছুটিও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, জেলা পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, সদস্য সচিব সাহিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, ছিনাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও সদস্য সচিব শাহিন পাটোয়ারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শাড়ি বিতরণের এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।