পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ঝিনুক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মানুষের আকৃতির দুটি শিল্পকর্ম। সৈকতের পূর্ব দিকে জাতীয় উদ্যানের ঝাউবনের সামনে তৈরি এসব শিল্পকর্ম দেখতে ভিড় করছেন পর্যটকেরা। অনেকে ব্যতিক্রমী এই দৃশ্যের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে সৈকতের ঝাউবন পয়েন্টে এ দৃশ্য দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকেরা বালুচরে সাদা ঝিনুক সাজিয়ে মানুষের অবয়ব দুটি তৈরি করেছেন।
কুয়াকাটার সৌন্দর্য নিয়ে কাজ করা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ট্যুর গাইড হৃদয় বিকেলে জাতীয় উদ্যানের সামনে ঘুরতে গিয়ে শিল্পকর্ম দুটি দেখতে পান। তিনি বলেন, “দূরে অসংখ্য সাদা ঝিনুকের মতো কিছু একটা দেখতে পাই। কাছে গিয়ে দেখি, ঝিনুক দিয়ে দুটি মানুষের আকৃতির শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়েছে। দৃশ্যটি আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছে। অনেক ধৈর্য ও সময় নিয়ে এগুলো তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। আমিও দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করেছি।”
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক স্মৃতি বলেন, “আমরা এক দিন আগে কুয়াকাটায় বেড়াতে এসেছি। সৈকতের বিভিন্ন জায়গা ঘুরেছি, গোসলও করেছি। আজ এক অটোচালক গঙ্গামতি সৈকতের দিকে ঝিনুক দেখার কথা বললে সেখানে যাওয়ার জন্য বের হই। ঝাউবনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ ঝিনুক দিয়ে তৈরি মানুষের আকৃতিগুলো চোখে পড়ে। আমরা বেশ কিছু ছবি তুলেছি। তবে খারাপ লাগছে, জোয়ারের পানিতে এগুলো হয়তো ভেসে যাবে।”
কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, “কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ঝিনুক দিয়ে মানুষের আকৃতি তৈরি পর্যটকদের সৃজনশীলতার একটি সুন্দর প্রকাশ। এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি সৈকতের সৌন্দর্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে। তবে পর্যটকদের আনন্দের পাশাপাশি সৈকতের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টিতেও গুরুত্ব দিতে হবে। পরিকল্পিতভাবে এমন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করা গেলে কুয়াকাটার পর্যটন আরও সমৃদ্ধ হবে।”
কুয়াকাটায় পর্যটকেরা সমুদ্রস্নান, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগের পাশাপাশি সৈকতে আলপনা আঁকাসহ নানা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। ঝিনুক দিয়ে তৈরি এই মানবাকৃতিও পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। তবে জোয়ারের পানিতে শিল্পকর্মগুলো কতক্ষণ টিকে থাকবে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে পর্যটকদের মধ্যে।
