কালবেলা · রাজনীতি
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে যেনো সুবিবেচক-সক্রিয় হয় সবাই: রাষ্ট্রদূত আনসারী
১৮/১০/২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকস্মিক পরিদর্শন ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা দূর করতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগকে আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সবাই নিজ নিজ দায়িত্বের জায়গায় আরও সুবিবেচক ও সক্রিয় হবেন। পরিদর্শনের দিনের তৎপরতা যেন প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত আনসারী বলেন, সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ১৩টি স্থানে আকস্মিক পরিদর্শনে আজ (১৭ অক্টোবর) আমাদের প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি আবাসন থেকে মানুষের চলার ফুটপাত-প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং হাজির হয়ে দেখেছেন, অব্যবস্থাপনার জবাব চেয়েছেন এবং সংশোধনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এই কর্মতৎপরতা আশাব্যঞ্জক এবং মানুষকে নাড়া দিয়েছে।
তিনি বলেন, শিশু হাসপাতালে নিজের কক্ষে একজন চিকিৎসকের ধূমপানের ঘটনা দায়িত্ববোধের চরম হঠকারী উদাহরণ। যেখানে শিশুদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা, সেখানে এমন আচরণ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা উন্নয়নে সাত দিন এবং আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টার পরিষ্কারে দুই সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়াও সংশ্লিষ্টদের জন্য স্পষ্ট বার্তা।
মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, দায়িত্বে থাকা পদস্থ ব্যক্তিরা যেমন নিজের পদ ও মর্যাদা রক্ষা, বাড়ি-গাড়ির যত্ন এবং পোশাক-পরিচ্ছদে পরিপাটি থাকেন, তেমনি তাদের অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানটির প্রতি যত্নবান হওয়ার দাবি কি খুব বেশি কিছু চাওয়া? কর্তাব্যক্তিদের সুসজ্জিত অফিসকক্ষের বাইরেও একটি জগৎ আছে। সেখানে কর্মীদের কাজের পরিবেশ কেমন, সেবাপ্রার্থীরা কোথায় বসেন, সাধারণ ওয়াশরুমগুলো পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারযোগ্য কি না- এসব নিয়মিত তদারকি করতে খুব বেশি অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
মুশফিকুল ফজল আনসারী আরও বলেন, আরেকটি মানবিক বিষয়েও শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পথের অসহায় কুকুর-বিড়ালকে আঘাত না করা এবং সম্ভব হলে তাদের খাবার ও পানি দেওয়া। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের পাশাপাশি প্রাণীর প্রতি মমতাশীল একটি প্রজন্ম গড়ে তোলার এই আহ্বানও প্রশংসনীয়। মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের সঙ্গে অসহায় প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতাও আমাদের আচরণে প্রতিফলিত হোক।
সবশেষে রাষ্ট্রদূত আনসারী প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আজকের এই উদ্যোগ আমাদের প্রত্যেককে নিজের দায়িত্বের জায়গায় আরও সুবিবেচক ও সক্রিয় করুক। পরিদর্শন দিনের তৎপরতা প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে উঠুক সংশ্লিষ্ট সকলের।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗