হাওড়া স্টেশন।
Published on
:
2 min read
রক্ষণাবেক্ষণের কাজে হাওড়া ডিভিশনে বাতিল ৫৯টি লোকাল ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন। আজ, রবিবার একাধিক ট্রেন বাতিল। ট্রেন বাতিল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া যাত্রীদের। কালীপুজোর আগে রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ করতে এ দিন একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন। বহু ট্রেনের সময়ও পরিবর্তন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের জেরে যাত্রীদের কিছুটা হলেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে ঠিকই। তবে রেলের নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজকে সমর্থন জানিয়েছেন বেশিরভাগই।
সিঙ্গুরের এক বাসিন্দা জানান, ট্রেন বাতিলের বিষয়টি তাঁরা আগে জানতে পারেননি। কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য তাঁদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া ছিল। সেখানে পৌঁছতে গিয়ে যথেষ্ট সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁদের। তিনি জানান, রেলের তরফে এই ধরনের সিদ্ধান্তের কথা কয়েক দিন আগে জানানো হলে সাধারণ মানুষ অনেকটাই উপকৃত হতেন।
যাত্রীদের একাংশের দাবি, যাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার নির্দিষ্ট সময় রয়েছে, যাঁদের পরীক্ষা বা জরুরি কাজ থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে ট্রেন বাতিলের কারণে সমস্যা আরও বাড়ে। যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থা করতে গিয়েও অনেক সময় ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রীদের।
যদিও রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ যে করতেই হবে, তা-ও মানছেন যাত্রীরা। সাময়িক কিছু অসুবিধা হলেও নিরাপদে যাত্রা করার স্বার্থে এই ধরনের কাজ অত্যন্ত জরুরি। এক যাত্রীর কথায়, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্যই রেলের এই সিদ্ধান্ত। সামান্য অসুবিধা হলে তা সামলে নেওয়া যেতে পারে।
এ দিকে, রবিবার লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে বহু মানুষ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করেন। অনেকে ঘুরতেও যান। ফলে ট্রেন বাতিল ও সময় পরিবর্তনের কারণে তাঁদেরও সমস্যার মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় রবিবার যাত্রীর চাপ কিছুটা কম থাকায় রেল কর্তৃপক্ষ এই দিনটিকে রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য বেছে নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা রেলের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কালীপুজোর আগে রেল লাইনের ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ করার প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে জোরকদমে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। রবিবার যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম থাকায় এই দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
রেলের তরফে আগাম বিজ্ঞপ্তি জারি করে ট্রেন বাতিল ও সময় পরিবর্তনের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি, এর ফলে যাত্রীদের যে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
সব মিলিয়ে, ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের কারণে একদিকে যেমন কিছু যাত্রীকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে, অন্য দিকে, তেমনই নিরাপদ রেলযাত্রার স্বার্থে এই কাজের প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করছেন যাত্রীরা। তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের সিদ্ধান্তের কথা আরও আগে জানানো হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা।
রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন শাখায় রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনের লিলুয়া-বেলুড়, মেন লাইনের কোন্নগর-রিষড়া, শেওড়াফুলি-ভদ্রেশ্বর ছাড়াও তারকেশ্বর-মায়াপুর, মগরা, বৈঁচি-মেমারি-সহ একাধিক অংশে দফায় দফায় ব্লক নেওয়া হয়েছে। বর্ধমান-তালিত, বাঁশবেড়িয়া-ত্রিবেণী, পূর্বস্থলী-পাটুলি, অগ্রদ্বীপ-দাঁইহাট এবং মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের বিভিন্ন অংশেও কাজ চলছে।