রুশ তেল কিনলেও ভারতীয় পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাবে না আমেরিকা। নিজের সিদ্ধান্ত থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে বড় ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও বললেন, “ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। তাদের জ্বালানি আমদানির উপর কোনওরকম নিষেধাজ্ঞা চাপানোর আগে অনেক বেশি চিন্তাভাবনা করা উচিত।”
আগামী সপ্তাহে ভারতে আসার কথা রয়েছে মার্কিন বিদেশ সচিবের। দিল্লি ছাড়াও জামনগর ও মুম্বইয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। শনিবার তিনি জানান, রাশিয়া-সংক্রান্ত যেসব নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, আগামী দু’মাস তার অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। উজবেকিস্তান ও ভারতে ছয় দিনের সফরে রওনা হওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমকে রুবিও বলেন, “দিল্লি এখন বিভিন্ন জায়গা থেকে জ্বালানি আমদানি করছে বটে, তবে এখনও তারা রাশিয়া থেকেই সিংহভাগ জ্বালানি আমদানি করে থাকে। ফলে রাতারাতি সরবরাহকারী বদল করা বেশ কঠিন।”
রুবিও আরও বলেন, “সমস্যা হল, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল রাশিয়ার ওপরই আরোপ করা হয়নি। এর মধ্যে ভারত-সহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই আমার মনে হয়, নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক— উভয় আরোপ করার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং এমনকী মার্কিন অর্থনীতির ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা বিশ্লেষণ করার জন্য আমাদের প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের সময় নিতে চাইছেন।”
প্রসঙ্গত, রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস কেনায় ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকী রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ না করায় ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্কও চাপান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল রবিবার থেকে। তার ঠিক আগে নিজের অবস্থান থেকে পুরোপুরি ঘুরে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রাশিয়া সংক্রান্ত বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা, কড়াকড়ি এবং শুল্ক মকুবের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন তিনি। আমেরিকার এ হেন সিদ্ধান্তের ফলে শুল্ক সংক্রান্ত শঙ্কা থেকে বড় স্বস্তি পেল ভারত। তবে শুধু ভারত নয়, একই রকম স্বস্তি পাচ্ছে চিনও।
