সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই হেলথ অথরিটি সাধারণ মানুষকে মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ খুঁজে পেতে ১০টি সহজ উপায় প্রকাশ করেছে।
১০ অক্টোবর উদযাপিত বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে দুবাই হেলথ অথরিটি (ডিএইচএ) ১০টি বিষয়ের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যা নিয়মিত চর্চা করলে মানসিক চাপ কমাতে এবং নিজের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।
ডিএইচএ-এর তথ্য অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন ১০টি উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:
১) নিজের খোঁজ নিন:
আরও পড়ুন
নিজের পেছনে সময় ও শ্রম বিনিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে মানসিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে। ডিএইচএ জানায়, আপনার মানসিক অবস্থা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করতে প্রতিদিন কিছুটা সময় বের করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন। আমি আসলেই কেমন অনুভব করছি? প্রায়শই দেখা যায়, জার্নালিং বা ডায়েরিতে অনুভূতির কথা লিখে রাখলে আপনার দিনটি কেমন কাটল সে বিষয়ে দারুণ উপলব্ধি তৈরি হতে পারে।
২) নিজের যত্ন নিন:
কোন জিনিসটি আপনাকে আনন্দ দেয়? সেটা কি পাখির ডাক নাকি বিকেল ৪টার এক কাপ চা-বিস্কুট? ডিএইচএ-এর পরামর্শ অনুযায়ী, পড়ালেখা, হাঁটা, জার্নালিং বা মেডিটেশনের মতো রিচার্জিং বা মন চাঙ্গা করে এমন কার্যকলাপে যুক্ত থাকুন।
৩) ডিভাইস থেকে দূরে থাকুন:
স্ক্রিন বা গ্যাজেট থেকে দূরে থাকলেই এক ধরনের অজানা উদ্বেগ ভর করে। এটি একটি প্রায় অবচেতন বা প্যাভলভিয়ান প্রতিক্রিয়া। মনকে শান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য নিজেকে পুনশিক্ষিত করা জরুরি। ডিএইচএ বলছে, মানসিক ক্লান্তি ও অতিরিক্ত উদ্দীপনা কমাতে স্ক্রিন থেকে বিরতি নিন।
৪) প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটান:
আপনার পায়ের নিচে মাটির স্পর্শ অনুভব করুন কিংবা সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শুনুন। সুযোগ পেলে বৃষ্টির পর ভেজা মাটির ঘ্রাণ নিন (পেট্রিকোর)। ঘরের বাইরে যাওয়ার জন্য সময় রাখুন এবং প্রকৃতির মাঝে সময় কাটান, কারণ তাজা বাতাস ও প্রাকৃতিক আলো আপনার স্বাস্থ্য ও মেজাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৫) সুস্থ সীমানা নির্ধারণ করুন:
আপনাকে নিজেকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে। এর অর্থ হলো মাঝে মাঝে মানুষ ও বিভিন্ন প্রজেক্টের কথায় 'না' বলা। বার্নআউট বা অতিরিক্ত মানসিক ক্লান্তি থেকে মনকে সুরক্ষিত রাখতে আপনার সময়ের মূল্য বুঝতে হবে এবং প্রয়োজনে 'না' বলার অনুমতি নিজেকে দিতে হবে।
৬) শরীর সচল রাখুন:
নিয়মিত ব্যায়াম করুন, কারণ এটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যকে সহায়তা করে, মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে এবং মন ভালো রাখে।
৭) অন্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করুন:
মানুষ সামাজিক জীব। মাঝে মাঝে কেবল আপনার দিনটি কেমন গেল বা কী আপনাকে ভাবাচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা করাই যথেষ্ট সাহায্য করতে পারে। আবার কোনো বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে বন্ধুর সঙ্গে শুধু খুনসুটি বা হাসাহাসি করাও দারুণ কাজ দেয়।
৮) শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন:
বিশ্ব দিন দিন আরও বেশি দ্রুতগতির হয়ে উঠছে। আর সে কারণেই কিছু সময় থামার এবং বিশ্রাম নেওয়ার সময় বের করা গুরুত্বপূর্ণ। ডিএইচএ পরামর্শ দেয়, বিশ্রামের জন্য বাড়িতে নির্দিষ্ট একটি শান্ত জায়গা তৈরি করুন, যেখানে বসে আপনি মনের ভেতরের সব কোলাহল বা শব্দ থামিয়ে দিতে পারবেন।
৯) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন:
আপনার জীবনে যা কিছু নিয়ে কৃতজ্ঞ হওয়ার মতো রয়েছে তা উপলব্ধি করার মতো দ্রুত আর কিছুই আপনার মুখে হাসি ফুটাতে পারবে না। আপনার জীবনের কোন বিষয়গুলো আপনার ভালো লাগে তা লিখে রাখতে চান কিংবা কেবল মনে মনে সেই পয়েন্টগুলো আউড়ে যেতে চান, প্রতিদিন এটি করুন। এমনকি এখনই এটি শুরু করতে পারেন।
১০) প্রয়োজনে সহায়তা নিন:
মাঝে মাঝে মনে হতে পারে আপনার চোখের সামনে যেন একটা পর্দা টেনে দেওয়া হয়েছে এবং আর কোনো কিছুই আপনার জীবনে আলো ফিরিয়ে আনতে পারবে না। একা একা শক্তিশালী থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। পরিবার, বন্ধু বা কোনো পেশাদার বিশেষজ্ঞ; যাদের আপনি বিশ্বাস করেন তাদের কাছে পৌঁছান। আপনার যখন প্রয়োজন মনে হবে তখন সাহায্য চাওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, এটি হলো শক্তির বহিঃপ্রকাশ। সূত্র: গালফ নিউজ
খাদিজা রুমি/
