প্রকাশিত: ১২:৫০, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ আপডেট: ১২:৫৭, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
জাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
দাউদকান্দিতে সন্ধান পাওয়া গেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলামের
নিখোঁজের এক দিন পর কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সন্ধান পাওয়া গেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলামের।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। তাকে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৮ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকা অভিমুখী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে উঠতে দেখা যায় মোহাইমিনুলকে। এরপর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। পরে হলের কক্ষ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়। এতে বিভাগীয় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও হয়রানির অভিযোগ তোলেন তিনি।
সহপাঠীদের ভাষ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে চতুর্থ বর্ষের একটি কোর্সে অকৃতকার্য হওয়ায় বিশেষ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আবেদন করেন মোহাইমিনুল। আবেদনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেয়। তবে, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিভাগের শিক্ষকেরা তাকে জানান, এখন বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়; পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে হবে। এতে তার উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপ পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি সহপাঠীদের। তাদের ভাষ্য, এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মোহাইমিনুল।
নিখোঁজের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে এবং ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানায়। তাকে খুঁজে বের করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ কাজ শুরু করে। পাশাপাশি ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং সুইসাইড নোটে উত্থাপিত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মোহাইমিনুলকে খুঁজে বের করতে সহযোগিতা করায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে, অনুসন্ধানে সহযোগিতার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী, তার সহপাঠী ও গণমাধ্যমকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
