চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা থেকে তিনি উপাচার্য ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ রয়েছেন।
আজ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে চিকিৎসকদের ভবনে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে দুই দফায় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপাচার্য ভবনের একটি কক্ষে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন রয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীরা কথা বলতে চাইলে প্রথমে তিনি রাজি হননি। পরে কক্ষের দরজার সামনে এসে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে খুবই অমানবিক অবস্থায় আছি। এ অবস্থায় আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা কীভাবে সহযোগিতা করবে, সেটা তাদের ব্যাপার।’
অবরুদ্ধ অবস্থায় শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে উপাচার্য বলেন, গতকাল রাত ২টার দিকে পুলিশের মাধ্যমে পাঠানো খাবার খেয়েছেন। দীর্ঘ সময় এভাবে থাকায় তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছে এবং রাতে ঘুমাতে পারেননি। ভেতরে থাকা অন্যদেরও নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
দুই দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা
দুপুর দেড়টার দিকে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. সাহাবউদ্দিন উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। তিনি জানান, উপাচার্যের নাড়ির স্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক ছিল। তিনি বুকে ব্যথার কথা জানাননি এবং হাসপাতালে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেননি।
পরে দুপুর ২টার দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. টিবলু কান্তি দে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এ সময় উপাচার্য জানান, সকাল ১০টা থেকে বুকে ব্যথা অনুভব করলেও পরে তা কমে এসেছে। তিনি নিয়মিত রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খান না বলেও জানান।
প্রথম পরীক্ষায় তার রক্তচাপ ১৪০/১০০ এবং পরে ১৫০/১০০ মিলিমিটার পারদচাপ (মিমি পারদ) বলে জানান চিকিৎসক।
দুই চিকিৎসকের দেওয়া তথ্যে ভিন্নতা দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন। দ্বিতীয় দফায় ডান হাতে রক্তচাপ চুয়েটের চিকিৎসক ১৩৯/১০০ এবং রাউজানের চিকিৎসক ১৪৫/১০০ মিমি পারদ পান। বাম হাতে যথাক্রমে ১২০/৮০ ও ১৩৫/১০০ মিমি পারদ রক্তচাপ পাওয়া যায়।
