স্টাফ রিপোর্টার
গাজীপুরের বাড়িয়া ইউনিয়নে একজন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৭নং সাড়াইয়া গ্রামের বিশ্বনাথ দাস, উত্তম চন্দ্র দাস ও মিহির চন্দ্র মণ্ডল নামের তিন ব্যক্তি সংরক্ষিত নারী আসন (ওয়ার্ড ৭, ৮, ৯)-এর সদস্য মর্জিনা বেগমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সচিব আরও জানান, মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, এবং বসতবাড়িতে মোটর বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে গ্রাম আদালতে বিচার চেয়ে চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বিশ্বনাথ দাস বলেন, "সুপেয় পানির জন্য আমার বসতবাড়িতে মোটর বসিয়ে দেবেন বলে ইউপি সদস্য মর্জিনা আমার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেন। চার বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি নানান অজুহাতে ঘোরাতে থাকেন। অবশেষে গত ১০/০৭/২০২৫ তারিখে বাড়িয়া ইউনিয়ন গ্রাম আদালতে অভিযোগ করি।"
উত্তম চন্দ্র দাস জানান,"আমার স্ত্রীকে মাতৃত্বকালীন ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ করেননি, এমনকি টাকা ফেরতও দেননি। পরে গত ২০/০৭/২০২৫ তারিখে চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করি।"
মিহির চন্দ্র মণ্ডল বলেন, "আমার পিতা একজন প্রতিবন্ধী। তাকে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইউপি সদস্য মর্জিনা ৩ হাজার টাকা নেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো সহযোগিতা করেননি, টাকাও ফেরত দেননি। গত ১৭/০৭/২০২৫ তারিখে আমি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করি।"
বাড়িয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী আসন ৪, ৫, ৬-এর সদস্য রহিছা, ওয়ার্ড সদস্য মঞ্জুর আলী, মোতালেব গাজী এবং সাবেক সদস্য বাচ্চু মোল্লা বলেন, "মর্জিনা একজন বেপরোয়া ও উচ্ছৃঙ্খল সদস্য। তার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এবার যখন অভিযোগ উঠেছে, তখন তিনি নিজের দোষ ধামাচাপা দিতে বাদীদের ও চেয়ারম্যানকে সামাজিকভাবে হেয় করতে নানা মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"
বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, "৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মর্জিনার বিরুদ্ধে কয়েকজন বাসিন্দা ঘুষ ও প্রতারণার মাধ্যমে লেনদেনের অভিযোগ করেছেন। আমরা বাদী ও বিবাদী উভয়কে ডেকে শুনেছি। দুইজন অভিযোগ স্বীকার করেছেন। কিন্তু এখনো টাকাগুলো ফেরত দেননি। বরং আমার সামনেই বাদীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন এবং আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা অপপ্রচার করছেন। আমি গণমাধ্যমকে অনুরোধ করব, আপনারা এসে সত্য যাচাই করে রিপোর্ট করুন।"
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মর্জিনা বেগম বলেন, "চেয়ারম্যান আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করছেন। তার বিরুদ্ধে আমি অভিযোগ করব। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।"
