সেভিয়ার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ৪-১ গোলে জয় ছাপিয়ে এখন আলোচনায় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে আরদা গুলারের কনুইয়ের আঘাত। রেফারির লাল কার্ড থেকে বেঁচে যাওয়া এই তুর্কি মিডফিল্ডার এগিয়ে দেন মাদ্রিদ ক্লাবকে। তাদের এই বড় জয় ছাপিয়ে এই বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে ‘অতিরিক্ত আগ্রহ’ কেন, বুঝতে পারছেন না কোচ হোসে মরিনিও।
২২তম মিনিটে পেকে ফার্নান্দেজকে কনুই দিয়ে আঘাত করেন গুলার। ওই সময় স্কোর ছিল ০-০। ওই ঘটনার কিছুক্ষণ পরই তার গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। অথচ তার মাঠেই থাকার কথা ছিল না। ১০ জনের রিয়ালের বিপক্ষে ১১ জনের দল নিয়ে খেলার সুযোগ বঞ্চিত হওয়ায় রেফারির ওপর ক্ষোভ ঝারেন সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া।
মরিনিওর মতে, বড় জয় থেকে মনোযোগ সরানোর উদ্দেশ্যে তার প্রতিপক্ষ কোচ এনিয়ে আলোচনা করছেন। রিয়াল কোচ বলেন, ‘তারা যা ঘটেছে বলে দাবি করেছে, তার কিছুই কেউ আমাকে দেখাতে পারেনি। কোনো ছবি নেই। আমি টিভি ফুটেজ চেয়েছি, আর আমার স্টাফদের কাছে ট্যাকটিক্যাল ক্যামেরার ছবি চেয়েছি, কিন্তু যে ঘটনা নিয়ে কথা বলা হচ্ছে এবং লুইসকে যা ক্ষুব্ধ করেছে, তার কোনো ছবিই আমি দেখতে পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, যদি একদিন এমন কিছু ঘটে যা আমাদের পক্ষে যায়, তবে তা স্বীকার করতে আমার কোনো সমস্যা হবে না। তবে আমি মনে করি এর উল্টোটা আরও বহুবার ঘটবে, এটাই প্রবণতা। আমি কিছুই দেখিনি। আগামী শনিবার পর্যন্ত যদি কেউ এমন কোনো স্পষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ ছবি বা ফুটেজ এনে দিতে পারে—যা আমার খেলোয়াড় বলছে ঘটেনি এবং আমি দেখিনি, তবে আমি (এ নিয়ে কথা বলতে) হাজির হব, কিন্তু তার আগ পর্যন্ত কিছু নয়।’
গার্সিয়া জোর গলায় বলছিলেন, ‘আজ আমাদের ২৫তম মিনিট থেকেই একজন অতিরিক্ত খেলোয়াড় নিয়ে খেলা উচিত ছিল, ১১ বনাম ১০ জনে। এরপর আর ম্যাচ নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। এটা অবিশ্বাস্য। আমি নিজের চোখে দেখেছি। বিরতির সময় পেকে বলছিল ‘সে আমাকে মেরেছে।’ এটি একটি লাল কার্ডের ঘটনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো আমরা এমনিতেও জিততাম না, কিন্তু আমাদের তো ৬৫ মিনিট ধরে ১১ জনের বিপরীতে ১০ জন নিয়ে খেলা উচিত ছিল। ম্যাচের সারসংক্ষেপ এটুকুই।’
প্রতিপক্ষ কোচের কথাবার্তা নিয়ে মরিনিও চুপ করে থাকেননি। তিনি বলে গেলেন, ‘লুইসের বিষয়টি আমি বুঝতে পারছি, তার দল ৪-১ গোলে হেরেছে। কোচ যদি এমন কোনো বিষয় নিয়ে চার-পাঁচটি প্রশ্ন খুঁজে পায়, যা ঘটেনি, সেটা তার জন্য চমৎকার। যখন এটা হলো, আমি (রিয়াল মাদ্রিদ সহকারী কোচ) পেদ্রোকে বলেছি, আমি এটা দেখতে চাই। কিন্তু কিছুই দেখতে পাইনি। হয়তো আরও ক্যামেরা ছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছু পাইনি।’
তারপর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে পর্তুগিজ কোচের প্রশ্ন, ‘আপনাদের কেউ কি এটা পরিষ্কার করে দেখতে পেয়েছেন? এ কারণেই আমি এটা নিয়ে প্রশ্ন করার বাড়াবাড়িটা বুঝতে পারছি না।’
এফএইচএম
