বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ বয় স্থাপন করে সমুদ্রের পরিবেশ, অবস্থা ও আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। এ লক্ষ্যে চীনের শীর্ষস্থানীয় সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (এসআইও) থেকে একটি অত্যাধুনিক পর্যবেক্ষণ বয় পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বয়টির স্থাপন, পরিচালনা ও সংগৃহীত তথ্য গবেষণায় ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে চীনে চবির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের পাঁচ দিনের সফরে। এতে স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ, যৌথ গবেষণা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়ের বিষয়েও সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা হয়েছে।
গত ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চীন সফর করে প্রতিনিধিদলটি। এর নেতৃত্ব দেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম, স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন এবং উপাচার্য দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ রিয়াজুল হারুন।
সফরের প্রথম দিন ১৫ অক্টোবর চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসআইও পরিদর্শন করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির ব্যবহার, সমুদ্রের পূর্বাভাস, সফটওয়্যার উন্নয়ন, তথ্য বিশ্লেষণ ও যৌথ গবেষণার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষক ও গবেষক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একই দিন এসআইওর লিনআন বেসে অবস্থিত স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন পরিদর্শন করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থাপিত বাংলাদেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা ও গবেষণার সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। গত ৯ জুন এসআইওর প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় স্টেশনটি উদ্বোধন করা হয়।
যৌথ গবেষণায় ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা
সফরের দ্বিতীয় দিন ১৬ অক্টোবর ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ সায়েন্সেস স্কুল, বিগ ডাটা সেন্টার ও আর্থ সায়েন্স মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন চবির প্রতিনিধিরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, আন্তর্জাতিক গবেষণা তহবিল সংগ্রহ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিজ্ঞানকেন্দ্র ও জাদুঘর ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
এ ছাড়া চীনা গবেষকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে সমুদ্র গবেষণায় যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন চবির প্রতিনিধিরা।
বঙ্গোপসাগরে বসবে পর্যবেক্ষণ বয়
সফরের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মধ্যে রয়েছে বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ বয় স্থাপনের পরিকল্পনা। এ বিষয়ে এসআইওর গবেষক ও জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের সঙ্গে কারিগরি বৈঠক করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। ইতিমধ্যে এসআইওর পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি অত্যাধুনিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ বয় দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বয়টি স্থাপনের উপযুক্ত স্থান নির্বাচন, স্থাপন ও পরিচালনা এবং এর মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য গবেষণায় ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বয়টি স্থাপন করা হলে বঙ্গোপসাগরের পরিবেশ, সমুদ্রের অবস্থা ও আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে সামুদ্রিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাস এবং জলবায়ুসংক্রান্ত গবেষণায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বাড়তে পারে।
সফর শেষে ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় চীনের হাংঝু থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। পরদিন ১৮ অক্টোবর সকালে তাঁরা দেশে ফেরেন।
