যশোরের রামনগর ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মশা নিধন কর্মসূচি পরিচালনা করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মুন্সি নাজমুল; এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।
যশোরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামে মশা নিধন কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মুন্সি নাজমুলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গ্রামের বিভিন্ন মহল্লায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
কর্মসূচি চলাকালে মুন্সি নাজমুল বলেন, ডেঙ্গু বর্তমানে দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ রোগের বিস্তার রোধে মশা নিধনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। শুধু ওষুধ প্রয়োগ করে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রামনগর ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে পর্যায়ক্রমে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতেও কাজ করা হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ইউনিয়নকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক বক্তব্যে তিনি বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, ফুলের টব, ড্রাম, বালতি ও অন্যান্য পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, চলতি বছরের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৬৯ জন। এ সময়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ১০০ জন। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে মশা নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাজিপুর গ্রামের এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাজেদুর রহমান মনি, মাস্টার আবু ইমরান গাজী, দেলোয়ার হোসেন দিলু, ইমরান মোল্লা, আমির হোসেন, সোহেল সরদার, সুবাহান, তাইজুল, রফিক, আব্দুল জলিল, মনোয়ার হোসেন, সাইফুল, সেলিমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় উদ্যোগের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সচেতন মহল।
