সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে তথ্যের ঘাটতি কমানো, শিশুদের জন্য যানবাহনে নিরাপদ আসন নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। আগামী ২২ অক্টোবর জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস পালনের অংশ হিসেবে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সিআইপিআরবির নির্বাহী পরিচালক ডা. আমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির রোড সেফটি প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কাজী বোরহান উদ্দিন। প্রবন্ধে তিনি বিশ্বজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনার পরিস্থিতি, বাংলাদেশে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান, দুর্ঘটনার কারণ এবং সড়ক পরিবহন আইন ও নীতিমালার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন।
কাজী বোরহান উদ্দিন নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন। এ পদ্ধতিতে সড়কব্যবস্থার বিভিন্ন উপাদানকে সমন্বিতভাবে নিরাপদ করার মাধ্যমে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সিআইপিআরবির নির্বাহী উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ কে এম ফজলুর রহমান বলেন, ‘শুধু আইন প্রয়োগ করে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ ও নিরাপদে চলাচলের অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি।’
পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানতে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিবেদন তৈরির ঘাটতি কমাতে হবে।
সভায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সিআইপিআরবির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির উপনির্বাহী পরিচালক ও আরটিআই প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক ড. সেলিম মাহমুদ চৌধুরী। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি।
মুক্ত আলোচনায় দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্সচালকদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা তৈরির প্রস্তাব আসে। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন অংশগ্রহণকারীরা।
আলোচনায় সড়ক নিরাপত্তার সব উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং দেশে ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। শিশুদের সুরক্ষায় যানবাহনে নিরাপদ শিশু আসন স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
ডা. আমিনুর রহমান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সিআইপিআরবি দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ভবিষ্যতেও এসব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
