Published on
:
3 min read
মাঠের বাইরে বিতর্ক, আইনি জটিলতা। তার পর জামিনে মুক্তি। কঠিন সময় পেরিয়ে ক্রিকেটে ফিরে এ বার ব্যাট হাতেই জবাব দিলেন অভিষেক পোড়েল। জামিনে মুক্তি পাওয়ার ২৫ দিনের মাথায় রঞ্জি ট্রফিতে শতরান করলেন বাংলার উইকেটকিপার-ব্যাটার। সোমবার কল্যাণীতে দিল্লির বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাট থেকে এল অপরাজিত ১১৪ রান। একই দিনে শতরান করে বাংলার ইনিংসকে মজবুত করলেন সুদীপ কুমার ঘরামিও। তাঁর সংগ্রহ ১২২। দুই ব্যাটারের অপরাজিত শতরানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যাওয়া বাংলা শুধু ঘুরেই দাঁড়াল না, প্রথম ইনিংসে লিডও তুলে নিল।
দিল্লির প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছিল ২৪০ রানে। সেই রান টপকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল বাংলার সামনে। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে এক সময় অস্বস্তিতে পড়ে যায় দল। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরন ৩৪ রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। অঙ্কুর পাল করেন ১৭ রান। সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের অবদান মাত্র ২। ১০৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে তখন চাপে বাংলা। সেখান থেকে সুদীপ কুমার ঘরামি ও অভিষেক পোড়েলের ব্যাটে বদলে গেল ছবিটা। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের অপরাজিত ১৯৯ রানের জুটিতে দিনের শেষে বাংলার স্কোর ৩ উইকেটে ৩০৪। দিল্লির থেকে এখন ৬৪ রানে এগিয়ে বাংলা।
১০৫ রানে ৩ উইকেট থেকে সুদীপের শতরানে ঘুরে দাঁড়াল বাংলা
বাংলার তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দিল্লির সামনে সুযোগ ছিল ম্যাচে আরও চাপ তৈরি করার। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে দিলেন না সুদীপ ও অভিষেক। সুদীপ শুরু থেকেই ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন। অন্য দিকে, অভিষেকও ক্রমশ হাত খুলে খেলতে শুরু করেন। দু'জনের ব্যাটিংয়ে এক দিকে যেমন উইকেট পড়া বন্ধ হয়, তেমনই বাড়তে থাকে বাংলার রান।
সুদীপের ইনিংস ছিল তাঁর পরিচিত ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ১৭০ বল খেলে ১২২ রানে অপরাজিত রয়েছেন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তাঁর দশ নম্বর সেঞ্চুরি। চাপের মুখে উইকেট ধরে রেখে কী ভাবে বড় ইনিংস খেলতে হয়, আরও এক বার দেখালেন বাংলার এই ব্যাটার। দিল্লির বোলারদের বিরুদ্ধে ধৈর্য ধরে ব্যাট করার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই রান তুলেছেন। তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দলের ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।
কল্যাণীর মাঠেও সুদীপের শতরান নতুন ঘটনা নয়। গত মরশুমে অন্ধ্র এবং জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির নকআউট পর্বে এই মাঠেই শতরান করেছিলেন তিনি। এ বার দিল্লির বিরুদ্ধে ফের তিন অঙ্কের রান সুদীপের। নতুন মরশুমের শুরুতেই তাঁর এই ইনিংস বাংলার ব্যাটিংয়ের জন্য বড় স্বস্তি। বিশেষ করে প্রথম তিন উইকেট দ্রুত পড়ে যাওয়ার পর যে ভাবে তিনি ইনিংসের হাল ধরেছেন, তাতে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ববোধ দু’টোই স্পষ্ট।
জামিনে মুক্তির ২৫ দিনের মাথায় শতরান অভিষেকের
অভিষেকের শতরানের গুরুত্ব অবশ্য শুধু রান দিয়ে বিচার করা যাবে না। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের বাইরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। গ্রেপ্তারির পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় রঞ্জি ট্রফিতে নেমে শতরান করলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের এমন পরিস্থিতি থেকে ফিরে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে নিজের ছন্দ খুঁজে পাওয়া যে সহজ নয়, তা বলাই যায়। অভিষেক অবশ্য ব্যাট হাতে নিজের কাজটা করে দেখালেন।
দিল্লির বিরুদ্ধে তাঁর ইনিংসের শুরুতে অবশ্য সুযোগ পেয়েছিল প্রতিপক্ষ। মাত্র ২ রানে থাকার সময় অভিষেকের ক্যাচ ফেলেন প্রথম স্লিপে থাকা সনৎ সাঙ্গওয়ান। তখন বাংলার রান ছিল ১২১। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনিংস বড় করেন অভিষেক। ৭০ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর শতরানের দিকেও এগিয়ে যান তিনি। দিনের শেষে ১১৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন বাংলার এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
অভিষেকের এই ইনিংস বাংলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরও একটি কারণে। প্রথম তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর দলের সামনে বড় জুটি গড়ার প্রয়োজন ছিল। সুদীপের সঙ্গে সেই কাজটাই করেছেন তিনি। একজন অভিজ্ঞ ব্যাটারের মতো সুদীপ ইনিংস সামলেছেন, আর অভিষেকও পরিস্থিতি বুঝে নিজের ব্যাটিং এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। মাঠের বাইরের ঘটনা থেকে নজর সরিয়ে ক্রিকেটে মন দেওয়ার ক্ষেত্রে এই শতরান তাঁকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে।
৬৪ রানে এগিয়ে বাংলা, মঙ্গলবার বড় স্কোরের সুযোগ
দিল্লির ২৪০ রানের জবাবে দিনের শেষে বাংলার স্কোর ৩ উইকেটে ৩০৪। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানের লিড পেয়েছে বাংলা। হাতে এখনও সাত উইকেট। ক্রিজে রয়েছেন দুই শতরানকারী সুদীপ ও অভিষেক। ফলে মঙ্গলবার প্রথম কাজ হবে এই জুটিকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়া এবং দিল্লির সামনে বড় লক্ষ্য খাড়া করা।
ম্যাচের শুরুতে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলা যে অবস্থায় ছিল, সেখান থেকে দিনের শেষে এই জায়গায় পৌঁছনো নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির। বাংলার বোলাররা দিল্লিকে ২৪০ রানে আটকে দিয়েছিলেন। এ বার ব্যাট হাতে দলের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন সুদীপ ও অভিষেক। সুদীপের ধারাবাহিক শতরান এবং কঠিন সময়ের পর অভিষেকের প্রত্যাবর্তনের সেঞ্চুরি— দুই ইনিংসের প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও বাংলার জন্য দু’টোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।