অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর শহরটিতে অবরোধ, হামলাকারীদের এলাকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং ব্যাপকভাবে বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের মন্ত্রীরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হেবরনের বাইরে একটি অস্থায়ী চেকপোস্টের কাছে বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হন। এর পরই এ ঘোষণা দেওয়া হয়। পশ্চিম তীরের বৃহত্তম ফিলিস্তিনি শহর হেবরনে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বসবাস করেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, হামলাকারী দুই ব্যক্তি একটি অ্যাসল্ট রাইফেল ও একটি হ্যান্ডগান নিয়ে গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। গাড়িটির নম্বরপ্লেট ছিল ইসরাইলের। হেবরনের বাইরে অস্থায়ী চেকপোস্টে সেনারা গাড়িটি থামালে তাঁরা গুলি চালান। পরে প্রায় ২০ মিনিট বন্দুকযুদ্ধের পর দুই হামলাকারী নিহত হন।
বাড়ি ভাঙা ও আদালতের নির্দেশ
হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের একটি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ঘটনাস্থলে বুলডোজারের মাধ্যমে বাড়ি ধ্বংসের ভিডিও প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, অনুমতি ছাড়া নির্মিত ওই বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে হামলাকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং তাঁদের শাস্তি নিশ্চিত করা। তবে বাড়িটির মালিকদের সঙ্গে হামলাকারীদের কোনো সম্পর্ক থাকার দাবি করা হয়নি।
বাড়ি ধ্বংসের কার্যক্রম শুরুর পরপরই ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট সাময়িকভাবে এ ধরনের উচ্ছেদ ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের নির্দেশ দেন। মানবাধিকার আইনজীবী মোহাম্মদ দাহলেহ কাছাকাছি এলাকার দুটি কারখানার মালিকের পক্ষে জরুরি আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ সম্মিলিত শাস্তি এবং ইসরাইলের প্রশাসনিক আইনের লঙ্ঘন।
দাহলেহ বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরগুলোতে ব্যবহৃত অবৈধ পদ্ধতি এবার পশ্চিম তীরের প্রাণকেন্দ্রে প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, গাজার মতো হেবরনের পুরো এলাকাও ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসরাইলের বিশিষ্ট আইনজীবী মাইকেল স্ফার্ড স্মোটরিচের প্রকাশিত ভিডিওকে সম্মিলিত শাস্তির সরাসরি স্বীকারোক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মন্ত্রীদের ঘোষণা
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ হেবরনে আরও ব্যাপকভাবে বাড়িঘর ধ্বংস এবং ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছেন। তিনি হেবরনের সম্ভাব্য অভিযানের সঙ্গে গাজা ও জেনিন শরণার্থী শিবিরে পরিচালিত অভিযানের তুলনা করেন।
কাটজ বলেন, জেনিন শরণার্থী শিবিরের আদলে এবার হেবরনে অভিযান চালানো হবে। যেসব গোত্রভিত্তিক এলাকা থেকে হামলাকারীরা এসেছেন, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। গাজা ও লেবাননের মতোই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ১৯৬৭ সালের পর পশ্চিম তীরে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে অভিযানের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তাঁর বক্তব্যে হেবরনে ব্যাপক উচ্ছেদ ও বাড়িঘর ধ্বংসের পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।
১৯৬৭ সালে পশ্চিম তীর দখলের সময় প্রায় তিন লাখ ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল।
বিআলো/শিলি